তৃণমূলের ভাঙন নিয়ে প্রথম মুখ খুললেন অভিষেক, কল্যাণের মানভঞ্জন?
আজ তক | ১৩ জুন ২০২৬
তাঁর দল চালানো নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন একের পর বিধায়ক ও সাংসদ। বৃহস্পতিবার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিঁধেছেন। শুক্রবার দলের ভাঙন নিয়ে প্রথম মুখ খুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে কল্যাণের মন্তব্যেও তাঁর প্রতিক্রিয়া এল। বললেন,'কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আমার কোনও ব্যক্তিগত ক্ষোভ নেই। তাঁকে আগেও সম্মান করতাম। আগামী দিনেও করব'।
ভোটে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর থেকেই দলের নেতা, সাংসদ থেকে বিধায়কদের সমালোচনার মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে একের পর এক অভিযোগ। ৫৮ বিধায়ককে নিয়ে বিদ্রোহ করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিই এখন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। অভিষেক মনে করিয়ে দেন, তৃণমূল ৪১ শতাংশ ভোট পেয়েছে। তাঁর কথায়,'দল ভাঙানো অনেক দিন থেকে দেখছি। ৩০ লক্ষ মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েও তৃণমূল ৪১ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ২ কোটি ৬০ লক্ষ ভোট পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের প্রতিনিধিত্ব করবে। এক চুল জায়গাও ছাড়বে না'।
'রাজনৈতিক মোকাবিলা করুন'
ওদিকে, লোকসভাতেও ভাঙন। সায়নী ঘোষের মতো অভিষেক ঘনিষ্ঠরাও এখন বিক্ষুদ্ধ শিবিরে। অভিষেক ইঙ্গিত দিলেন, ইডি-সিবিআইয়ের ভয় দেখিয়েই ভাঙা হচ্ছে তৃণমূল। বলেন,'যদি কেউ ভাবে ধমকে-চমকে সিআইডি-সিবিআই দিয়ে কুৎসা করে তৃণমূলকে দমানো যাবে না। ৩৪ বছরের সিপিএমের জগদ্দল পাথরকে সরিয়ে ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল। যাঁরা বড় বড় ভাষণ দিচ্ছেন, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করুন'।
বেসুরো কল্যাণ
দলের ভাঙনের মধ্যেও মমতার পাশেই ছিলেন কল্যাণ। তবে তিনিও এখন বেসুরো। বৃহস্পতিবার অভিষেককে নিশানা করে শ্রীরামপুরের সাংসদ বলেছেন,'অত্যন্ত ঔদ্ধত্য। ওঁর জন্য আমাকে চোর চোর শুনতে হচ্ছে। দিদিকে বলব, দলে হয় আপনি অভিষেককে রাখুন, না হলে আমাকে। যদি অভিষেককে ছাড়া দল না চলে, তবে আমি থাকব না। আমি মমতা দিদির সঙ্গে আছি।'।
কল্যাণকে নিয়ে প্রতিক্রিয়া
কল্যাণের সেই সব অভিযোগের প্রেক্ষিতে অত্যন্ত সংযত জবাব দেন অভিষেক। বলেন,'আমাকে নিয়ে চারটে কটূ কথা বলার অধিকার রয়েছে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ছোট থেকে মানুষ করেছেন। বড় হতে দেখেছেন। আমি ওঁর কথা খারাপভাবে নিই না। ওঁর একটা ঘটনা খারাপ লাগতে পারে, সেটা উনি বলেছেন। মার কোনও ব্যক্তিগত ক্ষোভ নেই। তাঁকে আগেও সম্মান করতাম। আগামী দিনেও করব'।