• রাত জেগে বিশ্বকাপ, সকালে অফিস! দুশ্চিন্তায় কলকাতার ফুটবলপ্রেমী চাকরিজীবীরা
    আজ তক | ১৩ জুন ২০২৬
  • ভারত এখনও ফুটবল বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার সুযোগ পায়নি। কিন্তু তাতে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনায় কোনও ভাটা নেই। বিশ্বকাপ শুরু হতেই কলকাতার চায়ের দোকান, আড্ডার আসর, অফিসের ক্যান্টিন, সব জায়গাতেই এখন একটাই আলোচনা, ফুটবল বিশ্বকাপ।

    কে জিতবে এবারের ট্রফি? মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনা, নেইমারহীন ব্রাজিল, রোনাল্ডোর পর্তুগাল নাকি জার্মানি বা ফ্রান্স, এই নিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক, বিশ্লেষণ আর ভবিষ্যদ্বাণী। তবে বিশ্বকাপের উন্মাদনার মাঝেই চাকরিজীবীদের একাংশের সামনে দেখা দিয়েছে নতুন সমস্যা, রাত জেগে খেলা দেখে পরদিন সকালে অফিসে পৌঁছনো।

    খেলা দেখবেন, না কি ঘুমাবেন?
    এবারের বিশ্বকাপের বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচই ভারতীয় সময় গভীর রাতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অনেক ম্যাচ শুরু হচ্ছে রাত সাড়ে ১২টা, দেড়টা, আড়াইটে বা সাড়ে ৩টেয়। ফলে পুরো ম্যাচ দেখে ঘুমোতে গেলে ভোর হয়ে যাচ্ছে। আর তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অফিসে হাজিরা দিতে হচ্ছে।

    কলকাতার সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলিতে এখন এই বিষয়টিই আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। অনেক কর্মীরই আশঙ্কা, রাত জেগে খেলা দেখার নেশা আর সময়মতো অফিসে পৌঁছনোর দায়িত্ব, দুটির মধ্যে সমন্বয় করাটা সহজ হবে না।

    হাজিরা নিয়ে বাড়ছে কড়াকড়ি
    সরকারি দফতরগুলিতে সম্প্রতি সময়মতো উপস্থিতি নিয়ে নজরদারি আরও কড়া হয়েছে। ফলে দেরিতে অফিসে পৌঁছনোর সুযোগ আগের তুলনায় অনেক কম।

    স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্মীর কথায়, 'আগে কখনও কখনও একটু দেরি হলে খুব একটা সমস্যা হতো না। কিন্তু এখন হাজিরা নিয়ে কড়াকড়ি বেড়েছে। তাই রাত জেগে বিশ্বকাপ দেখে পরদিন ঠিক সময়ে অফিসে পৌঁছনো সত্যিই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।'

    জনপ্রিয় ম্যাচ ছাড়ার উপায় নেই
    গ্রুপ পর্বে হয়তো কিছু ম্যাচ এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল কিংবা ফাইনালের মতো হাইভোল্টেজ ম্যাচ মিস করতে নারাজ অধিকাংশ ফুটবলপ্রেমী।

    তার উপর আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স বা পর্তুগালের মতো জনপ্রিয় দলগুলির ম্যাচ থাকলে তো কথাই নেই। সেই ম্যাচ না দেখে ঘুমোতে যাওয়া অনেকের পক্ষেই প্রায় অসম্ভব।

    ছুটির পরিকল্পনাও শুরু
    অনেকেই ইতিমধ্যে ম্যাচ বেছে দেখার পরিকল্পনা করছেন। কেউ শুধুমাত্র নিজের প্রিয় দলের ম্যাচ দেখবেন, কেউ আবার সপ্তাহান্তে হওয়া ম্যাচগুলির দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন।

    সেক্টর ফাইভের তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী রক্তিম দাস বলেন, 'সব ম্যাচ দেখা সম্ভব নয়। তাই বেছে বেছে খেলা দেখব। যেসব ম্যাচ শনিবার বা রবিবার রয়েছে, সেগুলো অবশ্যই দেখব। তবে সেমিফাইনাল আর ফাইনাল দেখার জন্য প্রয়োজন হলে অফিসে ছুটিও নেব। বিশ্বকাপ তো চার বছর অন্তর আসে, এই উন্মাদনা মিস করা যায় না।'

    বিশ্বকাপের উত্তেজনা যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে ফুটবলপ্রেমী চাকরিজীবীদের দোটানা। রাত জেগে প্রিয় দলের খেলা দেখবেন, নাকি পরদিনের অফিসের কথা ভেবে আগেভাগে ঘুমোবেন, এই কঠিন সিদ্ধান্তই এখন অনেকের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

     
  • Link to this news (আজ তক)