সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে হাজার হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের সাঙ্গুর গ্রাম। শুক্রবার অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা উপেন্দ্র মণ্ডলের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, সরকারি প্রকল্পের টাকা পেতে কিংবা বিভিন্ন সামাজিক ও প্রশাসনিক সমস্যার সমাধানের জন্য উপেন্দ্রকে টাকা দিতে হতো। টাকা না দিলে কোনও কাজই হতো না। বহু গরিব মানুষকেও টাকা দিতে বাধ্য করেছিলেন উপেন্দ্র। এখন সেই অর্থই ফেরত চাইছেন গ্রামবাসীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাস যোজনা-সহ একাধিক সরকারি প্রকল্পের প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছ থেকেও ‘কাটমানি’ নেওয়া হয়েছে। কারও কাছ থেকে ২ হাজার, কারও কাছ থেকে ২৪ হাজার, আবার অনেকের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ উঠেছে উপেন্দ্রর বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুধু সরকারি প্রকল্প নয়, জমি বিক্রি, পারিবারিক বিবাদ কিংবা প্রতিবেশীদের মধ্যে ঝামেলা মেটানোর ক্ষেত্রেও উপেন্দ্রকে অর্থ দিতে বাধ্য করা হতো।
শুক্রবার সকাল থেকেই ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা উপেন্দ্রর বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান। তবে অভিযুক্ত নেতাকে বাড়িতে ছিলেন না। বিক্ষোভকারীদের একাংশের অভিযোগ, তাঁদের জব কার্ড, রেশন কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথিও দীর্ঘদিন ধরে আটকে রেখেছিলেন উপেন্দ্র। গ্রামবাসীদের দাবি, এত দিন তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এবার তাঁদের সব টাকা ফেরত দিতে হবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সামনে আসেন উপেন্দ্রর স্ত্রী। তিনি বিক্ষোভকারীদের আশ্বাস দেন, ধাপে ধাপে সকলের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। তবে সেই আশ্বাসে আশ্বস্ত হতে পারছেন না গ্রামবাসীরা। তাঁদের সাফ কথা, টাকা ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
অভিযোগ উঠেছে, উপেন্দ্রর সংগ্রহ করা টাকার একটি অংশ স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য তথা তৃণমূল নেতা প্রশান্ত সর্দারের কাছেও পৌঁছত। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রশান্ত। তাঁর দাবি, তিনি কোনও টাকা নেননি এবং উপেন্দ্রর সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই।