• শিল্পের হাত ধরে আইটিআইয়ের রূপান্তর, ৫১ প্রতিষ্ঠানের আধুনিকীকরণে নতুন রোডম্যাপ রাজ্যের
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৩ জুন ২০২৬
  • রাজ্যের যুবক-যুবতীদের কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ আরও বাড়াতে এবং শিল্পক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। রাজ্যের ৫১টি সরকারি আইটিআইয়ের আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে তৈরি হল নতুন রোডম্যাপ। শিল্প সংস্থাগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও উন্নত ও যুগোপযোগী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    সম্প্রতি ‘পিএম সেতু’ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের টেকনিক্যাল সাপোর্ট ওয়ার্কশপে এই পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরে কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তর। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের কারিগরি শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। সেখানেই জানানো হয়, ৫১টি সরকারি আইটিআইকে কার্যত ‘দত্তক’ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং শিল্প সংস্থার সহযোগিতায় এগুলিকে আধুনিক পরিকাঠামো ও প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ করা হবে।

    মন্ত্রী জানান, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা পিপিপি মডেলের ভিত্তিতে এই প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মালিকানার ১৭ শতাংশ এবং পরিচালন ব্যবস্থার ৫১ শতাংশ পর্যন্ত বেসরকারি অংশীদারিত্বের সুযোগ থাকবে। এর ফলে শিল্পক্ষেত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সহজ হবে।

    দপ্তরের আধিকারিকদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠ্যক্রমভিত্তিক জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না, বরং অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পাবেন। নামী শিল্প সংস্থাগুলির সঙ্গে সংযোগ থাকায় প্রশিক্ষণ আরও বাস্তবমুখী হবে এবং কোর্স শেষ হওয়ার পর কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও নিশ্চিতভাবেই বাড়বে। ফলে পড়ুয়ারা দ্রুত শিল্পক্ষেত্রের উপযোগী হয়ে উঠতে পারবেন।

    প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনও বাধা এলে তা দূর করতে সরকার সর্বতোভাবে পাশে থাকবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, উন্নয়নের পথে কোনও ‘স্পিড ব্রেকার’ এলে তা সরানোর দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। প্রশাসনের আশা, এই উদ্যোগ সফল হলে পশ্চিমবঙ্গে কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং দক্ষ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হবে।

     
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)