আবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে হাজির হলো সিআইডি তদন্তকারী দল। শুক্রবার বিকেলে সিআইডি সেখানে নোটিস দিতে যায়। আসলে বিধানসভা নির্বাচনে প্রচারের সময় উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। সেই অভিযোগের তদন্ত এসেছেন সিআইডির তদন্তকারীরা। সই জাল-কাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার এই মামলায় ডায়মন্ডহারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঠিকানায় কড়া নাড়ল রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।
এদিকে সিআইডি আধিকারিকরা তাঁর কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার বাড়িতে আসেন। যদিও তখন বাড়িতে ছিলেন না তৃণমূল সাংসদ। তাই এখন অভিষেকের হাতে নোটিস দিতে পারেননি আধিকারিকরা। আপাতত তাঁর বাড়ির সামনে অপেক্ষা করছে সিআইডি। তাঁর হাতেই সরাসরি নোটিস দিতে চান সিআইডি আধিকারিকরা। এমনিতেই রবিবার সই জাল কাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে যেতে হবে সিআইডি আধিকারিকদের কাছে। মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। একদিন আগেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এবার নতুন মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান সিআইডি আধিকারিকরা।
অন্যদিকে প্রথমে বাগুইআটি থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। পরে ওই অভিযোগের তদন্ত করে বিধাননগর কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম থানা। তারপরে সেই মামলা এখন এসেছে সিআইডির হাতে। বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় দেওয়া ‘উস্কানিমূলক’ ও ‘হুমকি’ সংক্রান্ত বক্তব্যের প্রেক্ষিতে এই নোটিস। নির্বাচনী প্রচারের সময় জনসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘৪ তারিখের পরে ডিজে বাজানো হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতই উদার হোন, উনি বলেছিলেন বদলা নয় বদল চাই, এটা ওঁর ভুল ছিল। ৪ তারিখ এর জবাব হবে।’
তাছাড়া সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছিলেন, ‘যাঁরা বাংলাকে বঞ্চিত করেছেন, আমাদের লাইনে দাঁড় করিয়েছেন, আমাদের বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দিয়েছেন। ৪ তারিখে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে হালকা করে একটু ডিজেও বাজবে। রবীন্দ্রসঙ্গীত তো প্রত্যেকবার বাজে। তার সঙ্গে হালকা করে ডিজেও বাজবে এবার। যাঁরা বেশি লম্ফঝম্প করছেন। মনে রাখবেন আমাদের সৌজন্যতা দুর্বলতা নয়।’ এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই বাগুইআটির বাসিন্দা রাজীব সরকার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় সেই অভিযোগ দায়ের হতেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এবার এই মামলার তদন্তভার নিয়েছে সিআইডি। এদিন সিআইডির স্পেশাল টিম যখন অভিষেকের দুয়ারে হাজির হন তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে একটি জরুরি বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছেন। আগামী সপ্তাহে অভিষেককে ডাকার সম্ভাবনা বলে সিআইডি সূত্রে খবর।