• ‘হকারদের জন্য শ্রমদপ্তরের স্কিম রয়েছে, সুবিধা পাবেন’, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৩ জুন ২০২৬
  • ফুটপাত তুমি কার? পথচারীর নাকি হকারদের? এই প্রশ্ন এখন রাজ্য-রাজনীতিতে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ রাজ্যে পালাবদলের পর ফুটপাত জুড়ে থাকা হকারদের উচ্ছেদ শুরু হয়েছে। তাতে শহরবাসী যেমন রাজ্য সরকারকে সমর্থন করছেন তেমন বিরোধীরা বিরোধীতা করতে শুরু করেছেন। পথে নেমে হকার উচ্ছেদকে বাধা দিচ্ছেন। শুভেন্দু অধিকারীর সরকারকে অমানবিক বলে সরব হচ্ছেন। এই আবহে পথচারী এবং হকারদের-দুপক্ষের স্বার্থরক্ষা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি মানবিক হয়ে পাশে দাঁড়ালেন হকারদের।

    এদিকে বেআইনিভাবে অনেকেই ফুটপাথ দখল করে ব্যবসা করছেন। এই অভিযোগ রয়েছে বেশ কিছু শহরবাসীর। কারণ ফুটপাত দিয়ে হাঁটা যায় না। রাস্তায় নেমে এসে হকারি করার জেরে তা সুরু গলিতে পরিণত হচ্ছে। ফলে সেখান দিয়ে যানবাহন যেতে বেশ অসুবিধা হয়। তাই এই বেআইনি হকারদের উচ্ছেদ চলবেই। শুক্রবার বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে সাংবাদিক বৈঠক করে এই কথা স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে হকারদের জন্য শ্রমদপ্তরের স্কিম বন্দোবস্ত করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। আর তাতে আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন হকাররা।

    অন্যদিকে হাওড়া, শিয়ালদহ স্টেশন থেকে শুরু করে যাদবপুর, বালিগঞ্জ, দমদমে বেআইনি হকারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। আর এই উচ্ছেদে বাধা দিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে বামেরা। তাতে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাহলে কি পথচারীরা নিশ্চিন্তে ফুটপাত দিয়ে হাঁটবে না? পাল্টা বিরোধীদের বক্তব্য, গরিবের পেটে এভাবে লাথি মারা হবে? এখন সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ফুটপাথ দিয়ে হাঁটার অধিকার জনগণের আছে। সেই ফুটপাথ জবরদখল করার অধিকার কারও নেই। যেখানে সরকারের ফাঁকা জমি আছে, যেখানে জনগণের কোনও প্রয়োজন নেই, সেখানে বৈধ-অবৈধভাবে যদি বসে থাকেন, তবে মানবিকভাবে দেখব। কিন্তু আপনি নিউ মার্কেটের রাস্তা দখল করে নেবেন, মোটরসাইকেলও যেতে পারবে না। রাজাবাজারটা বেহাত হয়ে যাবে। খিদিরপুর, মেটিয়াবুরুজে আপনি যা খুশি করবেন, এটার জন্য আমাকে মুখ্যমন্ত্রী করেনি পাবলিক।’

    তাছাড়া এই কথা বলার পাশাপাশি মানবিক হয়েও হকারদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আর তাতেই সব খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘কলকাতার বড় বড় চওড়া রাস্তা, জনগণের হাঁটার ফুটপাথ বেআইনিভাবে তুলে দেওয়ার অধিকার আমাকে কেউ দেয়নি। আমাকে পাবলিক ভোট দিয়ে জিতিয়েছে। বিজেপি ও বিধায়করা মুখ্যমন্ত্রী করেছেন। আমি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ। জনগণের স্বার্থ যেখানে যুক্ত রয়েছে সেখানে জনগণের স্বার্থই সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে। কোনও মুষ্টিমেয় ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ অগ্রাধিকার পাবে না। তবে প্রাথমিকভাবে এখন সরে যান। ধীরে ধীরে সরকারি স্কিম আসবে। হকারদের জন্য শ্রমদপ্তরের স্কিম রয়েছে, আপনারা সেই সুবিধা পাবেন।’
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)