শিবপুরের শালিমার ইয়ার্ডে বুলডোজার অপারেশন! রাস্তার দু’ধারে বেআইনিভাবে দখল করে থাকা অন্তত ৫০টি দোকান বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো। শুক্রবার দুপুরে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও হাওড়া সিটি পুলিশের তরফে কয়েকটি বুলডোজার নিয়ে গিয়ে বেআইনি দোকানগুলিকে ভেঙে দেওয়া হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে এদিন জানানো হয়, রাস্তা চওড়া করা ও নর্দমা তৈরির জন্য এই দোকানগুলি ভাঙা জরুরি ছিল। বেআইনি দখলদারি থাকায় নর্দমা তৈরির কাজ বাধা পাচ্ছে, এই যুক্তিতে বেআইনি দোকানগুলি ভেঙে দখলমুক্ত করা হল।
শুক্রবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বুলডোজারগুলি একের পর এক দোকান ভাঙছে। এর মধ্যে অধিকাংশই কংক্রিটের। কোনওটা মুদির দোকান, কোনওটা সবজির দোকান তো কোনওটা আবার চায়ের দোকান। এভাবেই একের পর এক দোকান ভেঙে দেওয়া হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে এক পদস্থ আধিকারিক জানালেন, বছরের পর বছর ধরে দোকানগুলি রাস্তার দু’ধারে কোনও সরকারি অনুমোদন ছাড়া সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে গজিয়ে উঠেছে। বারবার বলা সত্ত্বেও এঁরা এতে কর্ণপাত করেনি। অবশেষে রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় এঁদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এঁদেরকে না সরালে রাস্তা চওড়া করা কিংবা ড্রেনের কাজ করা সম্ভব হবে না। তাই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাস্তার দু’ধারে থাকা প্রায় ৫০টির উপর দোকানই এখানে ভাঙা হয়েছে। ভাঙা পড়া একটি মুদিখানার দোকানের মালিক সুরেন্দ্র আগরওয়াল বলেন, ‘‘আমাদের এখানে গত ৭০ বছরের ব্যবসা। এতদিন কেউ কিছু বলেনি। নতুন সরকার এসেই বুলডোজার দিয়ে আমাদের দোকান গুঁড়িয়ে দিল! লোকসানের কোনও হিসেব নেই। পরিবার নিয়ে এবার পথে বসতে হবে। দোকান ভাঙার আগে আমাদের কোনও নোটিস কেউ দেয়নি। পুনর্বাসনের কথাও কেউ কিছু বলছে না। শুধু হঠাৎ দেখলাম দুপুরবেলা বুলডোজার নিয়ে এসে আমাদের দোকান ভাঙা শুরু হয়ে গেল।’’