‘বিদ্রোহী’ শিবিরে যেতেই পদ খোয়ালেন মালা রায়, মহিলা তৃণমূলের নতুন সভানেত্রী কে?
প্রতিদিন | ১৩ জুন ২০২৬
সাংসদের পাশাপাশি ঘাসফুল শিবিরের বহুদিনের বিশ্বস্ত সৈনিক হিসেবে দলীয় পদে ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ডামাডোলের মাঝে ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে নাম লেখাতেই সেই পদ খোয়ালেন তৃণমূলের দীর্ঘদিনের নেত্রী মালা রায়। শুক্রবার মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রীর পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে নতুন মুখ আনল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। তৃণমূলের তরফে রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য চিঠি পাঠিয়েছেন কালীগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদকে।
জানিয়েছেন, তাঁকেই মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্বভার তুলে দিল দল। আলিফার এই নতুন পদপ্রাপ্তির কথা সোশাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেছেন তাঁরই জেলার সাংসদ মহুয়া মৈত্র। নতুন দায়িত্ব পেয়ে দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আলিফা।
ছাব্বিশের ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পর দলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল একেবারে চরমে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনে রদবদলের পথে হাঁটেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সমস্ত সাংগঠনিক শীর্ষপদেই বদল আনেন। মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রীর পদ এতদিন সামলেছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তাঁকে রাজ্য সভাপতির পদে এনে মহিলা সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কলকাতা দক্ষিণের সাংসদ মালা রায়কে। যিনি আবার কলকাতা পুরসভারও চেয়ারপার্সন। কিন্তু সম্প্রতি দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে দিল্লিতে এনডিএ-কে সমর্থন জানানো সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারের নেতৃত্বে দেখা যায় মালা রায়কেও। পদপ্রাপ্তির পরই হঠাৎ তিনি বিক্ষুব্ধদের শিবিরে যোগ দেন এবং এনডিএ-কে সমর্থনের প্রস্তাবপত্রে সই করেন। শুক্রবার তা প্রকাশ্য আসার পরই দলের পদ থেকে মালাকে সরিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অবশ্য তার আগে গত ৮ জুন মালা রায় নিজেই পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন।
মহিলা তৃণমূলের নতুন সভানেত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হয় কালীগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদকে। ২০২৪-এ উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে আলিফার জয়ের পর ছাব্বিশের ভোটেও তাঁকে প্রার্থী করে ঘাসফুল শিবির। সেই ভরসা রেখে এবারও জিতেছেন আলিফা। তারই পুরস্কার স্বরূপ তাঁকে এবার বড় দায়িত্ব দেওয়া হল। শুক্রবার আলিফা আহমেদকে মহিলা তৃণমূলের নতুন সভানেত্রী পদে এনে চিঠি পাঠান চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। পরে তা সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রও।
নতুন দায়িত্ব পেয়ে আলিফা আহমেদ একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। তাতে তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য-সহ শীর্ষ নেতাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি বলেন, ”কালীগঞ্জবাসীকে স্মরণ করে বলতে চাই, এই সাফল্য আপনারা ছাড়া সম্ভব হতো না। এখন আমি কালীগঞ্জের পাশাপাশি গোটা রাজ্যে সমস্ত মা-বোনদের জন্য কাজ করতে পারব। আমাকে এই কাজের যোগ্য বলে মনে করেছে আমার দল, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। দায়িত্ব সহকারে নতুন কাজ করব।” সেইসঙ্গে পরোক্ষে দলের ভাঙন নিয়েও আলিফা বার্তা দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ”দলের এমন কঠিন সময় আসুন, আমরা সবাই এক হয়ে কাজ করি।”