• ‘ওর জন্য লোকে চোর বলছে’, বলেছিলেন কল্যাণ, ২৪ ঘণ্টা পর মুখ খুললেন অভিষেক
    প্রতিদিন | ১৩ জুন ২০২৬
  • দলের আভ্যন্তরীণ ‘বিদ্রোহ’ সামলাতে হিমশিম দশার মাঝেই বৃহস্পতিবার তৃণমূলের প্রবীণ ও নবীন সাংসদদের মধ্যে কার্যত বেনজির সংঘাত পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিধায়কদের সই জাল মামলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে সওয়াল করছিলেন প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বৃহস্পতিবার তিনি এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। অভিষেকের বিরুদ্ধে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে কল্যাণ জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানাবেন, হয় দলে অভিষেক থাকবেন, নয়তো তিনি। এনিয়ে বৃহস্পতিবার রাজ্য রাজনীতিতে বিস্তর চর্চার পর শুক্রবার অবশেষে মুখ খুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বর্ষীয়ান সাংসদের প্রতি তিনি কোনও আক্রমণ করেননি, উলটে শ্রদ্ধাই দেখালেন। বললেন, ‘‘কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধিকার রয়েছে কটূ কথা বলার। উনি আমাকে ছোট থেকে বড় করেছেন।”

    শুক্রবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাট রোডের বাড়িতে সিআইডির আগমন ও নোটিস ঘিরে একপ্রস্ত উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়েই কল্যাণকে নিয়ে পালটা মন্তব্য করেন তিনি। অভিষেকের কথায়, ‘‘কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধিকার রয়েছে কটূ কথা বলার। উনি আমাকে ছোট থেকে বড় করেছেন। আমার তাঁর প্রতি কোনও ক্ষোভ নেই। আমি তাঁকে আগেও সম্মান করতাম। এখনও করি।তাই তিনি যদি আমাকে সমালোচনা করেন, সেই অধিকারও তাঁর আছে।” 

    আসলে এই মুহূর্তে তৃণমূল কংগ্রেস দ্বিধাবিভক্ত। নবনির্বাচিত সরকারের আমলে আসল পরিচয় নিয়েই প্রশ্নের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। তরুণ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬৪ জন বিধায়ক নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করে বিরোধী দলের তকমা ছিনিয়ে নিয়েছে। যদিও এনিয়ে মামলা চলছে। অন্যদিকে, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ জন সাংসদ দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে এনডিএ-কে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। সবমিলিয়ে তৃণমূলে এই মুহূর্তে মুষলপর্ব চলছে। তার মাঝে অভিষেককে নিয়ে কল্যাণের ক্ষোভ নিঃসন্দেহে জটিলতা বাড়িয়েছিল। তবে ঘরোয়া কোন্দল নিয়ে রাজনৈতিক চর্চায় কার্যত জল ঢেলে অভিষেক বোঝালেন, এটা পুরোপুরি নিজেদের মধ্যে ব্যাপার। অভিভাবক-সম কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে নিয়ে যা বলেছেন, তা সম্পূর্ণত অধিকারবোধ থেকেই বলেছেন।
  • Link to this news (প্রতিদিন)