সই জালিয়াতি কাণ্ডে এ বার বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে তলব করল সিআইডি। শুক্রবার তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। আগামী রবিবার বেলা আড়াইটে নাগাদ তাঁকে ভবানী ভবনে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছেন তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে সই জালিয়াতি কাণ্ডে নোটিস দেওয়া হয়েছে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রকেও। তবে তাঁকে এখনও হাজিরা নির্দেশ দেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, রবিবারই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তলব করেছে সিআইডি।
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে নির্বাচিত করে স্পিকার রথীন বসুকে চিঠি দিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু সেখানে স্বাক্ষর করেননি, অথচ তাঁদের নাম রয়েছে বলে দাবি করেন তৃণমূলের বেশ কয়েক জন বিধায়ক। এমনকী কারও কারও স্বাক্ষর ব্লক লেটারে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। সেই নিয়ে হেয়ার স্ট্রিট থানায় দায়ের হয় মামলা। পরে ঘটনার তদন্তভার সিআইডি-র হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পরিষদীয় দলের এই চিঠিতে অভিষেকের স্বাক্ষর ছিল বলে অভিযোগ। এই নিয়ে তোলপাড় পড়ে যায় বঙ্গ রাজনীতিতে। অভিষেককে তলব করে সিআইডি। কিন্তু পরপর তিন বার তলব এড়িয়ে যান তিনি। রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থও হন। আদালত তাঁকে রক্ষাকবচ দিলেও অবিলম্বে হাজিরার নির্দেশও দেয়। বিচারপতি কৌশিক চন্দ জানিয়ে দেন, তদন্তে সব রকমের সহযোগিতা করতে হবে। সেই অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভবানী ভবনে হাজিরা দেন তিনি।
প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পরে রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ ভবানী ভবন থেকে বেরোন অভিষেক। কিন্তু ১৪ জুন অর্থাৎ রবিবার তাঁকে ফের হাজিরা দিতে বলেছে সিআইডি। একই সঙ্গে ওই দিনই তলব করা হয়েছে কুণালকেও। সূত্রের খবর, অভিষেককে ডাকা হয়েছে দুপুর ১২টার নাগাদ। আর কুণালকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে বেলা আড়াইটের সময়ে। অভিষেক আর কুণালকে একই দিনে ডাকা নিয়ে জোর জল্পনা ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
সই জালিয়াতি মামলাতেই মদন মিত্রকে নোটিস পাঠিয়েছে সিআইডি। তাঁর কামারহাটির বাড়িতে গিয়ে নোটিস দিয়ে এসেছেন তদন্তকারী অফিসাররা। তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে কবে ডাকা হবে, তার দিনক্ষণ উল্লেখ করা হয়নি। উল্লেখ্য, তৃণমূলের ৫৮ জন বিধায়ককে নিয়ে ‘বিদ্রোহ’ করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিষদীয় দল কার্যত ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে। তাঁরাই আসল তৃণমূল বলে দাবি বিদ্রোহী বিধায়কদের। এই আবহে সই জাল কাণ্ডের তদন্তে কোমর বেঁধে নামল সিআইডি।