তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে দায়ের হলো FIR। ছাব্বিশের নির্বাচনী প্রচারে তাঁর চারটি মন্তব্য তুলে শিলিগুড়ির সাইবার ক্রাইম থানায় মামলা করেছেন সঞ্জয় সিংহল নামে এক ব্যক্তি। এর মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে হুঁশিয়ারি দেওয়ার সেই বিতর্কিত মন্তব্যটিও রয়েছে।
২৭ এপ্রিলের সভায় নাম না করে অমিত শাহকে অভিষেক হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। এর সঙ্গে মহেশতলার রোড শো, আরামবাগের মিটিং এবং ৪ মে নন্দীগ্রামের সভা থেকে একের পর এক বক্তব্যে তিনি বিজেপিকে হুমকি দিয়েছিলেন বলে FIR-এ দাবি করেছেন সঞ্জয়।
এর আগে রাজীব সরকার নামে বাগুইআটির এক বাসিন্দা বিধাননগর কমিশনারেটে অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময়ে ‘উস্কানিমূলক’ মন্তব্য করার অভিযোগ করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি ভবানীপুর থানাতেও তাঁর নামে FIR দায়ের হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট, উস্কানিমূলক মন্তব্যের উল্লেখ করে, একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।
সই জালিয়াতি কাণ্ডেও নাম জড়িয়েছে অভিষেকের। পরিষদীয় দলের এই চিঠিতে অভিষেকের স্বাক্ষর ছিল বলে অভিযোগ। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে নির্বাচিত করে স্পিকার রথীন বসুকে চিঠি দিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু সেখানে স্বাক্ষর করেননি, অথচ তাঁদের নাম রয়েছে বলে দাবি করেন তৃণমূলের বেশ কয়েক জন বিধায়ক। তৃণমূলের জমা দেওয়া সেই চিঠিটি অভিষেক পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, চিঠিতে তাঁর স্বাক্ষর ছিল বলে দাবি।
এই ঘটনার তদন্তে অভিষেককে তলব করে সিআইডি। কিন্তু পরপর তিন বার তলব এড়িয়ে যান তিনি। রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থও হন। আদালত তাঁকে রক্ষাকবচ দিলেও অবিলম্বে হাজিরার নির্দেশও দেয়। বিচারপতি কৌশিক চন্দ জানিয়ে দেন, তদন্তে সব রকমের সহযোগিতা করতে হবে। সেই অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভবানী ভবনে হাজিরা দেন তিনি।