• সরানো হবে হকার, পথচারীদেরই ফুটপাত ফিরিয়ে দেবেন শুভেন্দু
    এই সময় | ১৩ জুন ২০২৬
  • এই সময়: ফুটপাথ দিয়ে সাধারণ মানুষের হাঁটার অধিকার ফিরিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাংলায় বিজেপি সরকার তৈরি হওয়ার পর বিভিন্ন সরকারি জায়গা থেকে অবৈধ হকারদের তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যা নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছে বামেরা। এই আবহে হকার ইস্যুতে শুক্রবার রাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন শুভেন্দু। তাঁর সাফ কথা, ‘ফুটপাথ দিয়ে হাঁটার অধিকার জনগণের। সেই ফুটপাথকে জবরদখল করার অধিকার কারও নেই। যেখানে সরকারের ফাঁকা জায়গা আছে, সাধারণ মানুষের চলাচলের সমস্যা হয় না, সেখা‍নে হকাররা যদি বসে থাকেন, মানবিক ভাবে দেখব।’ মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা, ‘নিউ মার্কেটের রাস্তা দখল করে নেবেন, রাজাবাজার বেহাত হয়ে যাবে, খিদিরপুর, মেটিয়াবুরুজে যা খুশি করবেন, এটার জন্য মানুষ আমাকে মুখ্যমন্ত্রী করেনি।’

    কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার নিউ টাউনের বিশ্ববাং‍লা কনভেনশন সেন্টারে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে সাম্প্রতিক হকার ইস্যুতে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, ‘কলকাতায় বড় বড় চওড়া রাস্তা। আর জনগণের হাঁটার জন্য ফুটপাথ। সেটা কাউকে দেওয়ার অধিকার আমাকে কেউ দেয়নি।’ তাঁর সংযোজন, ‘আমাকে মানুষ ভোট দিয়ে জিতিয়েছে। আমি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ। যেখানে জনগণের স্বার্থ জড়িত, সেই স্বার্থ সব থেকে বেশি গুরুত্ব পাবে। মুষ্টিমেয় কো‍নও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ অগ্রাধিকার পাবে না।’ তবে উচ্ছেদ হওয়ার হকারদের পাশে যে সরকার থাকবে সেই বার্তা স্পষ্ট করতে মুখ্যমন্ত্রী বলে‍ন, ‘আমরা মানবিক। উচ্ছেদ হওয়া হকারদের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।’ ফুটপাথ দখল করে বসে থাকা হকারদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ, ‘যেখানে ফাঁকা জায়গা রয়েছে, প্রাথমিক ভাবে সেখা‍নে সরে যান। আপনাদের জন্য ভারত সরকারের শ্রমমন্ত্রকের প্রকল্প রয়েছে। সেগুলি পাবেন।’

    কেন্দ্রীয় প্রকল্পে হকাররা কী কী সুবিধা পেতে পারেন? হকার্স সংগ্রাম কমিটির নেতা শক্তিমান ঘোষ বলেন, ‘কেন্দ্রীয় প্রকল্প বলতে প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যনিধি প্রকল্পের আওতায় আর্থিক ঋণ পেতে পারেন হকাররা। যার পরিমাণ ১০ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়াও যে সব হকাররা দারিদ্র সীমার নীচে রয়েছেন, তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের যে সব সমাজ কল্যাণমূলক প্রকল্প রয়েছে, সেই সব ক্ষেত্রে আবেদন জানিয়ে অংশীদার হতে পারবেন। তার সুবিধাও ভোগ করার সুযোগ পাবেন।’ তবে হকার্স জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির নেতা অসিত সাহা জানাচ্ছেন, শুধু ভবিষ্যনিধি প্রকল্পে ঋণ নয়, কেন্দ্রীয় প্রকল্পে আরও একাধিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে হকারদের। হকাররা অসংগঠিত শ্রমিকদের তালিকাভুক্ত। তাই অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য যে ক’টি কেন্দ্রীয় প্রকল্প রয়েছে তার সব ক’টিতেই তালিকাভুক্ত হয়ে সুবিধা পেতে পারেন তাঁরা। এর মধ্যে রয়েছে চিকিৎসার জন্য আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা। স্বনিযুক্তি প্রকল্পে প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং ইএসআই বিমারও সুযোগ পাবেন হকাররা। এ ছাড়াও সন্তানদের শিক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের বাল বিদ্যা প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ পাওয়া যাবে। যাঁরা ফুড স্টল করেন সেই সমস্ত হকাররা খাদ্য সুরক্ষা নীতির আওতায় নিখরচায় প্রশিক্ষণ নিয়ে সেই সংক্রান্ত সার্টিফিকেট পাওয়ার পরে স্বনিযুক্তি প্রকল্পেও ঋণ পেতে পারেন। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পে অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য কোনও গৃহ নির্মাণ প্রকল্প হলে হকাররাও সেই সুবিধা পাওয়ার আধিকারী। মহিলা হকাররা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধাভোগী হতে পারবেন। তবে এই সব প্রকল্পের সুবিধা ভোগের জন্য সংশ্লিষ্ট হকারদের কাছে, স্থানীয় পুর প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ভেন্ডিং লাইসেন্স থাকতে হবে বলেও তিনি জানান।

  • Link to this news (এই সময়)