এই সময়: একদিকে রোগীর বিপুল চাপ। অন্যদিকে সরকারি হাসপাতালে অপর্যাপ্ত বেড। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যে সব বেসরকারি হাসপাতাল জমি কিংবা অন্য সরকারি সুবিধা নিয়েছিল তৈরির সময়ে, নিয়মমতো সেই সব হাসপাতালের ১০ শতাংশ শয্যায় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে না পারা রোগী পাঠাবে বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য। এ বার কলকাতার এমন ১৭টি হাসপাতালের মোট ৬৬০টি বেড চিহ্নিত করলো স্বাস্থ্য দপ্তর। বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার।
বৃহস্পতিবারই কলকাতা ও লাগোয়া শহরতলির ১৭টি হাসপাতালের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন দুই মন্ত্রী–সহ স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা। ওই হাসপাতালদের জানানো হয়, তাদের মোট বেড সংখ্যা ও সরকারকে দেওয়া ১০ শতাংশ বেড সংখ্যা জানাতে। শুক্রবার সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা পড়ে স্বাস্থ্যভবনে। সুমনা বলেন, ‘অচিরেই ওই বেডগুলিতে মানুষ পরিষেবা পাবেন। বেড না থাকার কারণে সরকারি হাসপাতালে যে সব রোগী ভর্তি হতে পারবেন না, তাঁদেরকে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালই নিকটবর্তী বেসরকারি হাসপাতালে পাঠাবে।’
সূত্রের খবর, এই ১৭টি হাসপাতালের মধ্যে দু’টি হাসপাতাল ১০ শতাংশ বেড ছাড়তে গড়িমসি করছে। তবে তাদেরও মানতে হবে সরকারি সিদ্ধান্ত। এ দিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানান, আজ, শনিবার একই রকম বৈঠক রয়েছে জেলাস্তরের বেসরকারি হাসপাতালদের নিয়ে। সোমবার হবে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজদের নিয়ে বৈঠক। মঙ্গলবার স্বাস্থ্যকর্তারা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করবেন বিষয়টি নিয়ে। আর পুরো পরিকল্পনা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে জানিয়ে তাঁর সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যকর্তারা বৈঠক করবেন আগামী বুধবার।
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, নিজেদের মোট বেড সংখ্যার ১০ শতাংশ হিসেবে অ্যাপোলোর ৭৫টি, ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস কলকাতার ২১টি, ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেলথের ২১টি, ইসলামিয়া হাসপাতালের ২০টি, মনিপাল হাসপাতাল গোষ্ঠীর চারটি হাসপাতাল মিলিয়ে মোট ১০০টি, ডিসানের ৫১টি, কেপিসি–র ১০৬টি, রুবির ৪০টি, ফর্টিসের ৩৩টি, নারায়ণার ৬৮টি, শ্রী অরবিন্দ সেবাকেন্দ্রের ১৬টি, ভাগীরথী নেওটিয়ার ১১টি, বিপি পোদ্দারের ৩১টি এবং পিয়ারলেসের ৬৭টি বেড সংরক্ষিত থাকছে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে না পারা রোগীদের জন্য। এই ১৭টি হাসপাতালের মোট বেড সংখ্যা ৬ হাজার ৫৭৩। তার মধ্যে ৬৬০টি সরকারকে ছেড়ে দিতে হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শুক্রবার আরও জানান, অচিরেই রাজ্যজুড়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্তরের ১৫০–২০০টি আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির তৈরি হবে। এবং ব্লক হাসপাতালগুলিতেও বেড বাড়ানো হবে।