এই সময়: অনুকূল আবহাওয়া পরিস্থিতির সুযোগে উত্তরবঙ্গে প্রবেশের তিন দিনের মাথায় বর্ষা ঢুকে পড়ল দক্ষিণবঙ্গেও। শুক্রবার আলিপুর হাওয়া অফিস জানিয়েছে, এ দিন দুপুর পর্যন্ত পুরুলিয়ার একেবারে পশ্চিম প্রান্তের ঝালদা অঞ্চলের কিছুটা এলাকা বাদ দিয়ে গোটা পশ্চিমবঙ্গই এখন দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমি বাতাসের দখলে চলে গিয়েছে। ভারত মহাসাগরে বেশ কিছুদিন থমকে থাকার পরে নির্ধারিত ১ জুনের পরিবর্তে ৪ জুন কেরালা দিয়ে ভারত ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিল বর্ষার জোলো হাওয়া। দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমি বাতাস সেই যে গতি পেয়েছিল, পরের কয়েক দিন তা পুরোদস্তুর বহাল থাকায় ৯ জুন উত্তরবঙ্গে বর্ষা প্রবেশ করে।
তবে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণে বর্ষার প্রবেশ খুব সহজে হয় না। ২০২৪–এ উত্তরবঙ্গে বর্ষা শুরু হয়েছিল ৩১ মে। আর মৌসুমি বায়ুর দক্ষিণে নামতে সময় লেগেছিল আরও ২২ দিন। ২১ জুন দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা শুরু হয়েছিল। ২০২৫–য়েও উত্তরবঙ্গে বর্ষা ঢুকেছিল ২৯ মে, আর দক্ষিণে ১৭ জুন। কিন্তু এ বছর বাতাসের গতি বেশি থাকায় এবং একই সঙ্গে বিহারের উপরে একটি ঘূর্ণাবর্ত এবং পাঞ্জাব থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি মৌসুমি অক্ষরেখা বিস্তৃত থাকার ফলে প্রাকৃতিক সুবিধা পেয়ে উত্তরে বর্ষা নামার তিন দিনের মধ্যেই দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা নামল। ২০২১–এর পরে যা দ্রুততম।
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার, ১২ জুন দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আরও কিছুটা অগ্রসর হয়ে বঙ্গোপসাগরের অনেকটা অংশ ঢেকে ফেলার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের প্রায় পুরো এলাকা, বিহারের কিছুটা অংশ এবং ওডিশা ও ঝাড়খণ্ডেরও কিছুটা অংশে পৌঁছে গিয়েছে। বর্তমানে মৌসুমি বায়ুর উত্তর সীমারেখা হারনাই, সোলাপুর, হায়দরাবাদ, কলিঙ্গপত্তনম, পারাদ্বীপ, বারিপদা, পুরুলিয়া, ধানবাদ, মুজফফরপুর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। সামনের তিন দিনে বর্ষার বাতাস আরও কিছুটা এগিয়ে পশ্চিমবঙ্গের অবশিষ্ট এলাকায়, মহারাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকায়, কর্ণাটকের বাকি অংশে, তেলঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশে, ওডিশা, ঝাড়খণ্ড ও বিহারের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এবং ছত্তিসগড়ের কিছুটা অংশেও প্রবেশ করতে চলেছে।