• আদালত চত্বরে আসামীকে হেনস্থা নয়, সিদ্ধান্ত বার অ্যাসোসিয়েশনের
    এই সময় | ১৩ জুন ২০২৬
  • সঞ্জয় দে, দুর্গাপুর

    কড়া সিদ্ধান্ত নিল দুর্গাপুর বার অ্যাসোসিয়েশন। আদালত চত্বরে কোনও আসামীকে হেনস্থা করা যাবে না। বৃহস্পতিবার বৈঠক করে এমনই সিদ্ধান্ত নেন বার অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষ। অ্যাসোসিয়েশনের বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয় এসিজেএম–কে। এই সিদ্ধান্তের পরে শুক্রবার ধৃত দুই আসামীকে নির্দিষ্ট গেটের বদলে অন্য গেট দিয়ে আদালতে নিয়ে আসে পুলিশ।

    রাজ্যে পরিবর্তনের পরে একের পর এক তৃণমূল নেতা, কাউন্সিলার ও কর্মীকে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। থানা থেকে তাঁদের আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন সাধারণ মানুষ থেকে বিজেপি কর্মীরা। ধৃতদের লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান উঠছে। তাঁদের দিকে উড়ে আসছে ডিম, গোবর, জুতো। প্রতিটি ঘটনা ঘটছে থানা ও আদালত চত্বরে। ব্যতিক্রমী নয় দুর্গাপুর। সম্প্রতি কিছু তৃণমূল কাউন্সিলারকে আদালতে পেশ করার সময়ে বিজেপি কর্মীরা তাঁদের তাড়া করে মারতে যান। জুতো ছোড়ারও চেষ্টা করেন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ আইনজীবীরা।

    দুর্গাপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সঞ্জীব কুণ্ডু বলেন, ‘বৃহস্পতিবার আমরা বার অ্যাসোসিয়েশনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আদালত চত্বরের মধ্যে কোনও আসামীকে হেনস্থা করা যাবে না। তিনি তৃণমূলের নেতা বা কর্মী অথবা অন্য কোনও মামলার আসামী হন, সবার ক্ষেত্রে এই নিয়ম মানতে হবে। আদালত চত্বরের বাইরে কোথায় কী হবে, তা নিয়ে আমাদের কোনও মাথাব্যথা নেই।’ যোগ করেন, ‘তিন দিন আগে আদালতে আগাম জামিন নিতে এসেছিলেন এক যুবক। আদালত চত্বর থেকে তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় কিছু দুষ্কৃতী। আদালত চত্বরে এমন ঘটনা মানা যায় না। সিদ্ধান্তের কথা এসিজেএম–কে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশকে নির্দেশ দেবেন।’

    কয়েকদিন আগে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে প্রাক্তন কাউন্সিলার রামপ্রসাদ হালদারকে আনা হয়। সে দিন প্রচুর বিজেপি কর্মী–সমর্থক ভিড় করেন আদালত চত্বরে। তাঁদের ক্ষোভ এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, দড়ি দিয়ে ব্যারিকেড করতে হয় পুলিশকে। রামপ্রসাদকে আনার পরে তেড়ে আসেন বিজেপি কর্মীরা। ‘চোর’ স্লোগান দেওয়ার সঙ্গে জুতো ছোড়ার চেষ্টা হয়। পুলিশ তা রুখে দেয়। একই ভাবে আর এক তৃণমূল কর্মী সুকুমার দত্তকে বৃহস্পতিবার আদালতে পেশ করার সময়ে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। বিজেপি কর্মীরা একটি জুতোর মালা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আদালত চত্বরে পুলিশের গাড়ি থামতেই তাঁরা দৌড়ে যান সুকুমারকে সেই মালা পরাতে। কোনওরকমে সুকুরমারকে নিয়ে দৌড়ে আদালতের ভিতরে ঢুকে পড়েন পুলিশকর্মীরা। এক পুলিশকর্মীর কথায়, ‘আদালতে ঢোকার পথে নিকাশি নালা আছে। দৌড়নোর সময়ে কেউ নালায় পড়ে গেলে বড় বিপদও হতে পারত।’

    দুর্গাপুর মহকুমা আদালতের পিপি ইনচার্জ দেবব্রত সাই বলেন, ‘আদালত চত্বরের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনও ভাবেই আসামীদের হেনস্থা করা যাবে না, এমনই নির্দেশ রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের। গত কয়েকদিন ধরে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে যে ভাবে আসামীদের হেনস্থা করা হচ্ছে, তার জন্য বার অ্যাসোসিয়েশন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

  • Link to this news (এই সময়)