সরকারি কর্মীদের বাড়িতে প্রথমে বসবে স্মার্ট মিটার, বিল হবে পোস্ট-পেইড
আজ তক | ১৩ জুন ২০২৬
রাজ্যে স্মার্ট বিদ্যুৎ মিটার চালুর প্রক্রিয়া আবার শুরু করতে চলেছে সরকার। তবে আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সাধারণ গ্রাহকদের উদ্বেগ দূর করতে দুটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।
প্রথমত, গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য বসানো স্মার্ট মিটার হবে পোস্ট-পেইড। অর্থাৎ বর্তমান ব্যবস্থার মতোই মাসের শেষে বিদ্যুৎ বিল আসবে, আগে থেকে টাকা রিচার্জ করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হবে না। দ্বিতীয়ত, সাধারণ মানুষের বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসানোর আগে রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং সরকার-পোষিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের আবাসনে এই প্রকল্প চালু করা হবে।
উল্লেখ্য, আগের সরকারও গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য স্মার্ট মিটার বসানোর উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু ব্যাপক জনঅসন্তোষ এবং বিভিন্ন অভিযোগের জেরে গত বছর সেই কর্মসূচি কার্যত স্থগিত হয়ে যায়।
কেন আপত্তি উঠেছিল?
রাজ্যে প্রায় ৬০ হাজার স্মার্ট মিটার বসানোর পর বহু গ্রাহক অভিযোগ করেছিলেন যে তাঁদের বিদ্যুৎ খরচের বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছে। পাশাপাশি আরেকটি বড় সমস্যা ছিল প্রিপেইড ব্যবস্থা। অনেকের অভিযোগ, মিটারের ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত এবং পুনরায় সংযোগ চালু করতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হতো।
এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, নতুন সরকার কেন্দ্রের রিভ্যাম্পড ডিস্ট্রিবিউশন সেক্টর স্কিম (RDSS) বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। এই প্রকল্প অনুযায়ী সরকারি ভবন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক এলাকায় ধাপে ধাপে স্মার্ট মিটার বসানো বাধ্যতামূলক। তবে একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের বিষয়গুলিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
প্রিপেইড নয়, এবার পোস্ট-পেইড
সরকারি সূত্রের দাবি, স্মার্ট মিটার নিয়ে মানুষের সবচেয়ে বড় আপত্তি ছিল প্রিপেইড পদ্ধতি। মোবাইল ফোনের মতো আগে টাকা ভরে তারপর বিদ্যুৎ ব্যবহার করার ব্যবস্থায় অনেকেই স্বচ্ছন্দ ছিলেন না।
তাই এবার সেই সমস্যা এড়াতে পোস্ট-পেইড স্মার্ট মিটার বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে গ্রাহকরা আগের মতোই বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন এবং নির্দিষ্ট বিলিং চক্র অনুযায়ী বিল পরিশোধ করবেন।
সরকারি কর্মীদের বাড়ি থেকেই শুরু
রাজ্য সরকার প্রথম পর্যায়ে সরকারি কর্মচারীদের আবাসনে স্মার্ট মিটার বসানোর পরিকল্পনা করেছে। প্রশাসনের মতে, এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় কোনও বাধা বা প্রতিরোধের সম্ভাবনা কম থাকবে।
এক আধিকারিকের কথায়, “এটিকে এক ধরনের পাইলট প্রকল্প বলা যেতে পারে। প্রথমে সরকারি কর্মীদের বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসানো হবে। কোথাও কোনও ত্রুটি ধরা পড়লে তা সংশোধন করে পরে সাধারণ গ্রাহকদের বাড়িতে এই ব্যবস্থা চালু করা হবে।”
সরকারি অফিসে দ্রুত কাজ
এরই মধ্যে সরকারি দফতরগুলিতে স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। রাজ্যের প্রায় ৯২ হাজার সরকারি অফিসের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৮০ হাজার অফিসে স্মার্ট মিটার বসানো হয়েছে। বাকি অফিসগুলিতেও আগামী আগস্টের মধ্যে এই কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, আগের বিতর্ক ও অভিযোগের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার আরও সতর্কভাবে এবং ধাপে ধাপে স্মার্ট মিটার প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। এতে সাধারণ গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করাই প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।