‘আমি তদন্তকারী সংস্থা নই’, বাড়িতে তল্লাশি নিয়ে প্রশ্নে ক্ষুব্ধ অভিষেক আর যা বললেন...
আজ তক | ১৩ জুন ২০২৬
সাতসকালেই তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে তল্লাশি। তারপরই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মেজাজ হারালেন সাংসদ। আজ পুলিশি তল্লাশির পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অভিষেক বলেন, 'আমি তদন্তকারী সংস্থা নই। তদন্তকারী সংস্থাকে জিজ্ঞেস করুন। তারা সার্চ করে গিয়েছে। উত্তর তারা দেবে। আমি তদন্তকারী সংস্থার প্রতিনিধি নই। পুরো বাড়ি সার্চ হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাকে জিজ্ঞেস করুন।' আর তাঁর কথাতেই পরিষ্কার, এই বিষয়টা নিয়ে বিশেষ কোনও মন্তব্য করতে রাজি নন তিনি। বরং তিনি গোটা ঘটনায় বেশ ক্ষুদ্ধ।
কী জানা যাচ্ছে?
শনিবার সাতসকালে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছে যায় পুলিশ। এ দিন সকালে শালবনি থানার পুলিশ আধিকারিকরা লোকসভার তৃণমূল সাংসদের বাড়িতে যান। তাদের সঙ্গ দেয় কলকাতা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানারও।
এখন প্রশ্ন হল কেন এই তল্লাশি? যতদূর খবর, অভিষেকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ব্যক্তিগত সহকারী সুমিত রায়কে খুঁজছে পুলিশ। শালবনি থানায় দায়ের করা একটি মামলার সূত্র ধরেই সুমিতকে খোঁজা হচ্ছে। সেই কারণেই তারা অভিষেকের যায়।
আর অভিষেকের বাড়িতে তল্লাশির খবর দ্রুত পৌঁছে যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। তারপর তিনি সেখানে যান। তিনি কিছুটা সময় সেখানে থাকেন। তারপর বেরিয়ে আসেন।
প্রসঙ্গত, শনিবার একদম সকালে পুলিশ বাহিনী পৌঁছে যায় অভিষেকের বাড়ি। তারা সেখানে গিয়ে বাড়ির সদস্যদের ডাকাডাকি শুরু করে। তারপর মেন গেটের তালা ভেঙে তারা বাড়িতে ভিতরে প্রবেশ করে। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালানোর পর তারা সেখানে থেকে বেরিয়ে যায়। আর এই ঘটনা নিয়ে রেগে আগুন অভিষেক।
বৃহস্পতিবারই অভিষেককে সিআইডি সই জাল কাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাতেই অভিষেক ভবানী ভবনে সিআইডি দফতরে হাজিরা দিয়েছিলেন। সেই দিন তাঁকে টানা সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন গোয়েন্দারা। সেখান থেকে তিনি বেরন রাত সাড়ে ১১টার সময়। তারপর পৌঁছে যান কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে।
আর এই মামলাতেই রক্ষাকবচ চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক। আদালত পরের শুনানি পর্যন্ত অভিষেককে রক্ষাকবচ দেয়। আদালত জানায়, পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে সিআইডি কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না। ও দিকে অভিষেককেও তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত জানিয়েছে, দু’সপ্তাহ পরে মামলাটি ফের শোনা হবে।
তবে এসবের মাঝেই শুক্রবার সিআইডি যায় অভিষেকের কালীঘাটের বাড়ি। নির্বাচনের সময় করা তাঁর একটি মন্তব্যের জন্যই সিআইডি ফের কালীঘাটে যায় বলে জানা গিয়েছে।