‘ঘর ওয়াপসি’ মমতা ও শারদের? এবার ‘অখণ্ড কংগ্রেস’ গড়ার দাবি
বর্তমান | ১৩ জুন ২০২৬
নয়াদিল্লি: ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি কংগ্রেস ছেড়ে নিজের নতুন দল তৃণমূল কংগ্রেস গড়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯৯ সালে নতুন দল এনসিপি গড়লেন মহারাষ্ট্রের নেতা শারদ পাওয়ার। সঙ্গী পি এ সাংমা ও তারিক আনোয়ার। এরপর গোদাবরী ও গঙ্গা দিয়ে বহু জল গড়িয়েছে। মহারাষ্ট্রে ক্ষমতা হারিয়ে ইতিমধ্যেই দু’টুকরো শারদ পাওয়ারের এনসিপি। বাংলার ক্ষমতা হারিয়ে প্রায় একই পরিস্থিতির মুখে মমতাও। এই ‘দুর্দিনে’ কি মমতা ও শারদ পাওয়ার ফের কংগ্রেসেই ফিরে আসছেন? বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল বলেছেন, তৃণমূলের কংগ্রেসে মিশে যাওয়া নিয়ে যে রিপোর্টগুলি প্রকাশ্যে এসেছে, সেগুলি ‘ভিত্তিহীন জল্পনা’। তবে, মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা নানা পাটোলে শারদ পাওয়ার ও মমতার ‘ঘর ওয়াপসি’র ইঙ্গিত দিয়ে ‘অখণ্ড কংগ্রেস’ গড়ার তত্ত্ব ভাসিয়ে দিয়েছেন। রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট বলেছেন, আমার মতে যারা যারাই কংগ্রেস ছেড়ে চলে গিয়েছে বা অন্য দল করেছেন, এখন যা পরিস্থিতি তাতে সবার ফিরে আসা উচিত। এতে কংগ্রেসেরও ভালো। তাদের জন্যও ভালো।
ঠিক কী বলেছেন মহারাষ্ট্র প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তথা বিধায়ক নানা পাটোলে? তাঁর দাবি, শারদ পাওয়ার ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাওয়ার বিষয়ে মনস্থির করছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো জোট নয়, বরং একত্রীকরণ হবে। পাটোলের মতোই ‘অখণ্ড কংগ্রেস’ গড়ার তত্ত্বে শান দিয়েছেন শিবসেনার উদ্ধব থ্যাকারে শিবিরের নেতা সঞ্জয় রাউত। বলেছেন, তৃণমূল ও এনসিপির মতো যেসব দল কংগ্রেস ভেঙে তৈরি হয়েছিল, বিজেপিকে সত্যিই হারাতে চাইলে তাদের ফের কংগ্রেসে মিশে যাওয়ার সময় এসেছে। কংগ্রেস ভেঙে তৈরি হওয়া দলগুলির কংগ্রেসেই মিশে যাওয়া উচিত। এবিষয়ে শারদ পাওয়ারের কন্যা সুপ্রিয়া সুলের প্রতিক্রিয়া, সঞ্জয় রাউত প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতা। তাঁর মন্তব্য বিবেচনা করা উচিত দলের। যদিও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিজেপি নেতা তথা মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। তাঁর ঠেস, কংগ্রেস এখন ডুবন্ত জাহাজ। কংগ্রেসের মতো একটি মরণাপন্ন দলের সঙ্গে মিশে যাওয়ার ভুল আঞ্চলিক দলগুলি যে করতে না, সেবিষয়ে আমি নিশ্চিত। ফাইল চিত্র