• অসম, ত্রিপুরা মডেলে রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী আবাসন যোজনা
    বর্তমান | ১৩ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: অসম, ত্রিপুরা মডেলে প্রধানমন্ত্রী আবাসন যোজনার ঘর বিলি করতে চায় রাজ্য। শুক্রবার শিলিগুড়িতে পাঁচ জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর এমন ইঙ্গিত দেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, অসম ও ত্রিপুরাতে টিনের বাড়ি থাকলেও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ঘর বিলির বিশেষ অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। গরিব মানুষকে পাকা ঘর দিতে আমরাও সেই অনুমতি চাইব। একইসঙ্গে পঞ্চায়েতমন্ত্রী বলেন, এবার ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের জন্য ১৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র। ভুয়ো ২৫-৩০ লক্ষ শ্রমিককে বাদ দেওয়া হবে। 

    দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ এলাকায় বন্ধ ছিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ঘর (প্রধানমন্ত্রী আবাসন যোজনা) বিলি। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হতেই সেই প্রকল্প ফের সূচনা করা হয়েছে। উপভোক্তা তালিকা তৈরি করতে জেলা জেলায় শুরু হয়েছে সমীক্ষা। কিন্তু প্রকল্পের নিয়ম অনুসারে ঘরপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হতে পারেন অনেক দরিদ্র গ্রামবাসী। কয়েকদিন আগে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের বিরোধী দলনেতা বিজেপির অজয় ওরাওঁ প্রকল্পের নিয়ম কিছুটা শিথিল করার দাবি তোলেন। 

    এমন প্রেক্ষাপটে এদিন প্রশাসনিক বৈঠকের পর পঞ্চায়েতমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে অনেক গ্রামবাসীর বাড়ি টিন দিয়ে তৈরি। ঘরে টিনের বেড়া কিংবা চাল থাকছে। সেগুলি না কাঁচা, না পাকা। উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও সমতলে এধরনের বাড়ি বেশি। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার নিয়ম অনুসারে সংশ্লিষ্ট বাড়িগুলিকে ঘর দেওয়ার কথা নয়। তা হলে প্রচুর দরিদ্র মানুষ বঞ্চিত হবেন। কিন্তু অসম ও ত্রিপুরায় টিনের ঘর থাকলেও গ্রামবাসীদের আবাস যোজনার ঘর বিলির বিশেষ অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আমরাও অসম ও ত্রিপুরার মতো সেই অনুমতি চাই। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠাব। 

    এদিন মৈনাক ট্যুরিস্ট লজে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলার ডিএম সহ পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের আধিকারিকরা, এসডিও, বিডিও বৈঠকে হাজির ছিলেন। বৈঠকের পর পঞ্চায়েতমন্ত্রী আরও বলেন, পাহাড়ে চা বাগানের শ্রমিকদের জমির পাট্টা নেই। তাঁদেরকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। পাহাড়বাসীর জমির সমস্যা মেটানোর ব্যাপারে ভাবনা-চিন্তা শুরু হয়েছে। এজন্য আইন পরিবর্তন করতে হতে পারে।

    বৈঠকে ১০০ দিনের কাজ, প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনা, স্বচ্ছভারত মিশন প্রকল্প, ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের পরিকাঠামো ও কর্মীসংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে খবর। পঞ্চায়েতমন্ত্রী বলেন, কয়েকদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দিল্লি গিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১৭০০ কোটি টাকা। যারমধ্যে উত্তরবঙ্গের জন্যই রয়েছে ৭০০ কোটি টাকা। কিন্তু ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে প্রচুর ভুয়ো জবকার্ড আছে। তাই জবকার্ড শুদ্ধিকরণ করা হচ্ছে। যেমন ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ গিয়েছেন। এখানেও ২৫-৩০ লক্ষ ভুয়ো সুবিধাভোগী রয়েছেন। যাঁরা এখানকার নাগরিক নন।
  • Link to this news (বর্তমান)