• মদনেশ্বর শিবমন্দির চত্বর খুঁড়তে গিয়ে মিলল শিবলিঙ্গ, দেখতে ভিড় মানুষের
    বর্তমান | ১৩ জুন ২০২৬
  • সংবাদদাতা, রামপুরহাট: কয়েকশো বছরের পুরোনো ময়ূরেশ্বরের কোটাসুরের মদনেশ্বর শিবমন্দির। যা কৌটেশ্বর রাজার সদর দপ্তর হিসাবে খ্যাত। জনশ্রুতি, অজ্ঞাতবাস কালে পাণ্ডবরা এই এলাকায় আত্মগোপন করেছিলেন। বকাসুরকে বধ করেছিলেন ভীম। এখানে মহাদেবের আরাধনা করেছিলেন দেবী কুন্তী। শুক্রবার সেই মন্দির চত্বর সম্প্রসারেণের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি চলাকালীন অবাক করা ঘটনার সাক্ষী হলেন গ্রামের বাসিন্দারা। খননকার্য চালাতে গিয়ে মিলল প্রাচীন শিবশিঙ্গ।  যা নিয়ে হইচই পড়ে যায় এলাকাজুড়ে। আশেপাশের গ্রামের বহু মানুষ ছুটে আসেন। শিবলিঙ্গ ফুল দিয়ে শুরু হয় পূজাচর্না।  

    জানা গিয়েছে, শিবরাত্রির সময় অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে মন্দির কমিটি সীমানা পাঁচিল ভেঙে চত্বরটি আরও কিছুটা বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই উদ্দেশ্যে শুক্রবার জেসিবি ও শ্রমিক দিয়ে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়। কিছুক্ষণ বাদে একটি পাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার হয়। যা নিয়ে গোটা এলাকায় শোরগোল পড়ে গেছে। দূর-দূরান্তের গ্রাম থেকে মানুষ এটি দেখতে ভিড় করছেন এবং ইতিমধ্যেই ভক্তিভরে ফুল-বেলপাতা দিয়ে পূজার্চনা শুরু হয়ে গিয়েছে। শিবলিঙ্গটি ঠিক কতটা প্রাচীন এবং এটি কোন সময়ের ভাস্কর্য বা পাথরের তৈরি, তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও এতে কোটাসুরের প্রাচীন ইতিহাসের ওপর আরও নতুন আলো পড়ল বলেই মনে করছেন এলাকার প্রবীণ বাসিন্দারা। 

    কথিত আছে, মহাভারতের সময়কালে এখানে রাজ দরবার এবং অসুরকুল উভয়েরই সহাবস্থান ছিল কোটাসুরে। তখন কৌটেশ্বর রাজত্বের জনপদ ও সদর দপ্তর ছিল এটি। বর্তমান কোটাসুর নামটি প্রাচীন কৌটেশ্বর রাজ্যের নাম থেকে এসেছে। সেই রাজার আরাধ্য ছিলেন মদনেশ্বর শিব। মহাভারতের একচক্রা নগরীর অর্ন্তভূক্ত ছিল কোটাসুর। অজ্ঞাতবাস কালে পাণ্ডবরা এই এলাকায় আত্মগোপন করেছিলেন। বকাসুরকে বধ করেছিলেন ভীম। প্রমাণ হিসেবে মদনেশ্বর মন্দির প্রাঙ্গণে রক্ষিত একটি প্রস্তরখণ্ডকে বকাসুরের হাঁটুর মালাইচাকির ফসিল হিসেবে দাবি করে থাকেন এলাকার মানুষজন। একই সঙ্গে ওই চত্বরে রয়েছে প্রদীপের আকৃতির আরও একটি প্রস্তরখণ্ড। ওই প্রস্তরখণ্ডটিকে কুন্তীর প্রদীপ হিসেবে প্রদর্শন করা হয়। পাণ্ডবরা অজ্ঞাতবাসে থাকাকালীন এই মদনেশ্বর শিবের পুজো দিয়েছিলেন দেবী কুন্তী। মন্দিরের সেবাইত সোমনাথ রায়ের বিশ্বাস, পাণ্ডবদের অজ্ঞাতবাসের সময়কালের উদ্ধার হওয়া এই শিবলিঙ্গ। আপাতত উদ্বার হওয়া জায়গাতেই শিবলিঙ্গটিকে গঙ্গাজল দিয়ে পরিষ্কার করে শুরু হয়েছে পূজাচর্না। পরবর্তীতে মন্দির চত্বরে শিবলিঙ্গটি প্রতিষ্ঠা করা হবে। 

    এদিকে বহু পুরোনো ইতিহাসের সাথে জড়িত এই মন্দির চত্বর থেকে শিবলিঙ্গ উদ্ধার গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোককথাকে যেন আরও একবার জীবন্ত করে তুলল। 
  • Link to this news (বর্তমান)