• ইসিএলের জমি দখল করে আস্ত পেট্রল পাম্প তৃণমূল নেতার! সরগরম আসানসোল
    বর্তমান | ১৩ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ইসিএলের জমি যেন নিজের সম্পত্তি! কেউ বানিয়েছেন বাড়ি। কেউ আবার তৈরি করেছেন পার্টি অফিস। এবার প্রকাশ্যে এল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইসিএলের জমি দখল করে জিটি রোডের পাশে পেট্রল পাম্প বানিয়ে ফেলেছেন তৃণমূল নেতা। এমনই অভিযোগে সরগরম আসানসোল। দীর্ঘদিন চুপচাপ থাকার পর পালাবদল হতেই পেট্রল পাম্পে উচ্ছেদের নোটিস সাঁটাল ইসিএল। সাত দিনের মধ্যে এলাকা খালি করার  নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তৃণমূল নেতা রোহিত নুনিয়াকে। এখানেই শেষ নয়, ইসিএলের জমিতেই বিলাসবহুল অফিস বানিয়েছিলেন ওই নেতা ও তাঁর শাগরেদরা। বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা সেই অফিসেও উচ্ছেদের নোটিস ধরিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

    শুধু রোহিত নুনিয়া নন, এতদিন ইসিএলকে নিজের কব্জায় রাখা প্রাক্তন তৃণমূল জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর বাসস্থানেও পড়ল ইসিএলের নোটিস। অণ্ডাল থানার বাঙ্কোলা এলাকায় ইসিএলের কোয়ার্টারেই থাকেন প্রাক্তন ইসিএল কর্মী নরেন্দ্রনাথ। বৃহস্পতিবার সেই কোয়ার্টারের সামনে নোটিস সাঁটিয়ে দিয়েছেন ইসিএল আধিকারিকরা। অভিযোগ, তাঁর বাসস্থানের অদূরে পার্টি অফিস সরিয়ে নেওয়ার জন্য পুনর্বাসন পেয়েছেন নরেন্দ্রনাথ। তারপরও সেই পার্টি অফিস সরিয়ে নেওয়া হয়নি। সাতদিনের মধ্যে সেই পার্টি অফিস ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

    আসানসোল পুরসভার ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডের ধেমোমেন কোলিয়ারি এলাকার বেতাজ বাদশা হয়ে উঠেছিলেন রোহিত নুনিয়া। বাম আমলে কাউন্সিলার থাকা রোহিত এলাকার কোলিয়ারি সাইডিং নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। পুরো কোলিয়ারি এলাকায় তিনিই ছিলেন শেষ কথা। ক্ষমতা বদলের পর তিনিও আবার তৃণমূল নেতা হয়ে ওঠেন। ছেলে সঞ্জয় নুনিয়াকে বরো চেয়ারম্যান করে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রভাব প্রতিপত্তি বাড়তে থাকে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ বারবার অভিযোগ করেছিলেন, ইসিএলে জমি দখল করে জিটি রোডের পাশে পেট্রল পাম্প করছেন রোহিত। তখন টুঁ শব্দটুকু করেনি ইসিএল। গ্রামবাসীরা বিভিন্ন জায়গায় গণস্বাক্ষরিত অভিযোগপত্র দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। উল্টে, কোলিয়ারির সাইডিং নিয়ন্ত্রণ করতে ঩জিটি রোডের উপর পাম্পের পাশেই বিশাল এলাকাজুড়ে অফিস গড়ে তোলেন রোহিত। এভাবে বিস্তীর্ণ জমি তৃণমূল নেতার করায়ত্ত্ব হয়ে গেলেও ইসিএল কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। সেই সুযোগে ধেমোমেন কোলিয়ারির দুর্গাপুজোর সর্বেসর্বা হয়ে ওঠে নুনিয়া পরিবারই। বুধবার রাতে তাঁদের বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীদের মারধর করার অভিযোগ ওঠে। তারপরই শুক্রবার রোহিতের নামে তাঁর অফিস ও পেট্রল পাম্পে উচ্ছেদ নোটিস দিল ইসিএল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তাঁর বিলাবহুল অট্টালিকাটিও ইসিএলের জমি দখল করে তৈরি হয়েছে। এদিন ইসিএল কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের জমিতে গড়ে ওঠা সব বেআইনি নির্মাণই ভেঙে দেওয়া হবে। জানা গিয়েছে, রোহিতের ছেলে সঞ্জয় সোমবারই তৃণমূল কাউন্সিলারের পদ থেকে ‌ইস্তফা দিয়েছেন। বিজেপি সূত্রে খবর, বাবা-ছেলে মিলে এখন বিজেপিতে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। 

    অন্যদিকে, ইসিএল কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা হলেও এলাকায় সেই সংস্থাকে এতদিন নিয়ন্ত্রণ করে গিয়েছেন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। তিনি যা বলতেন ইসিএল আধিকারিকরা তাই করতেন। নরেন্দ্রনাথ এখন আর জেলা সভাপতি নেই। তিনি এখন প্রাক্তন বিধায়ক। ক্ষমতা হারাতেই দলীয় কার্যালয়ে উচ্ছেদের নোটিস সাঁটিয়ে দিল ইসিএল। বিজেপির জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য বলেন, ‘তৃণমূল মনেই চোর। বিজেপির আমলে সবার বিচার হবে। কোনো অভিযুক্ত ছাড়া পাবে না।’ বিষয়টি নিয়ে রোহিত নুনিয়াকে ফোন করা হলে তাঁর মোবাইলের সুইচ অফ। অফিসেও তাঁর দেখা পাওয়া যায়নি।  -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)