‘সম্মান না পেলে তৃণমূল ছাড়তে হবে’, বিদ্রোহের আবহে বেসুরো অনুব্রতও
বর্তমান | ১৩ জুন ২০২৬
সংবাদদাতা, বোলপুর: তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালীন তাঁকে নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। জেলও খেটেছেন। কিন্তু দলের প্রতি তাঁর আস্থা কখনও টাল খায়নি। দলনেত্রীর ভরসার হাতও আাগগোড়াই ছিল তাঁর মাথায়। তিনি আর কেউ নন, বীরভূমের অবিসংবাদী তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর পরিস্থিতি আমূল বদলে গিয়েছে। এই সেদিনের শাসক দলে এখন বিদ্রোহের চড়া সুর। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তোপ দেগে ‘বিদ্রোহী’ হচ্ছেন একের পর এক তাবড় নেতা-নেত্রী। এই আবহে এবার বেসুরো হলেন ‘বীরভূমের বাঘ’ অনুব্রতও! বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির জন্য সরাসরি আইপ্যাককে দায়ী করছেন তিনি। সেই সঙ্গে তাঁর ঘোষণা, ‘সম্মান না পেলে তৃণমূল ছাড়তে হবে।’
বিধানসভা ভোটে দলের শোচনীয় পরাজয়ের পর অনুব্রত চুপচাপই ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি মুখ খোলেন। সেখানেই তিনি দলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাককে এই পরাজয়ের জন্য কাঠগড়ায় তোলেন। বলেন, ‘২০১৪, ২০১৬ কিংবা ২০১৯ সালের নির্বাচনে আইপ্যাকের কোনো ভূমিকা ছিল না। ওই সংস্থার উপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণেই দলের ভরাডুবি হয়েছে। ওরা পয়সা কামাতে এসেছিল। জেগে ঘুমালে দলের এই অবস্থাই হবে। দল চলে সংগঠনের ভিত্তিতে। উত্তরপ্রদেশের লোক বীরভূমের মুরারইয়ের মানুষের কথা কি বুঝবে? বিহারের একজন লোক লাভপুরকে কীভাবে বুঝবে?’ এরপরই তিনি খেদের সঙ্গে বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন একা হয়ে গিয়েছেন। তাঁর জন্য খারাপ লাগছে। আমি তাঁকে শ্রদ্ধা করি।’
এবারের বিধানসভা ভোটে তাঁকেও কার্যত কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেন অনুব্রত। তিনি বলেন, ‘এবার ভোটে আমাকে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। কোর কমিটির নির্দেশ ছিল, কোনো প্রার্থী ডাকলে তবেই আমি যেতে পারব। তাই আমি সেভাবে ভোটও করিনি।’
গোরু পাচার মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই তিনি রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরে রয়েছেন বলে দাবি করেন অনুব্রত ওরফে কেষ্ট মণ্ডল। তাঁর কথায়, ‘জেল থেকে ফেরার পর রাজনীতি করা বন্ধ করে দিয়েছি। দিদিও জানেন, সবাই জানে। আমার হাতে ঘি খাওয়া হয়নি, অন্যের হাতে ঘি খাওয়া হয়েছে! কারণ, নির্বাচনে আমার কোনো ভূমিকাই ছিল না। দিদি বা অভিষেক যখন কর্মসূচিতে এসেছিলেন, তখন গিয়েছি।’ তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক ও সাংসদদের পাশেই দাঁড়িয়েছেন অনুব্রত। এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘তাঁরা অন্যায় কিছু করেননি। তাঁরা বিজেপি করেননি। আলাদা একটা ফ্রন্ট তৈরি করেছেন।’ সম্মান না পেলে দল ছাড়ার কথা বললেও অনুব্রত তাঁর বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, ‘এখনও তৃণমূলেই আছি।’ সেই মতো এখনও বোলপুরে দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিতই আসছেন তিনি। যদিও ভোটে হারার পর থেকে তৃণমূলের অন্য নেতা-কর্মীদের সেখানে সেভাবে দেখা যাচ্ছে না।