• অবশেষে ইস্তফা সভাধিপতি, সহ সভাধিপতির, ভাঙল হাওড়া জেলা পরিষদের নির্বাচিত বোর্ড
    বর্তমান | ১৩ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলেন হাওড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাবেরী দাস ও সহ সভাধিপতি অজয় ভট্টাচার্য। শুক্রবার তাঁদের ইস্তফার মধ্যে দিয়ে তৃণমূল পরিচালিত জেলা পরিষদের নির্বাচিত বোর্ড কার্যত ভেঙে গেল। একইসঙ্গে বিদ্রোহী সদস্যদের আনা অনাস্থা প্রস্তাবও বাস্তবে সফল হল।

    কয়েক দিন ধরেই জেলা পরিষদের অন্দরে অস্থিরতা বাড়ছিল। বুধবার জেলা পরিষদের সদস্য তুষারকান্তি ঘোষের নেতৃত্বে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ দুর্নীতি, স্বজনপোষণ ও স্বেচ্ছাচারের অভিযোগ তুলে সভাধিপতি ও সহ সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন। অভিযোগকারীদের দাবি ছিল, জেলা পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অধিকাংশ সদস্যের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হত না এবং গোটা ব্যবস্থাই কার্যত প্রাক্তন মন্ত্রী পুলক রায়ের প্রভাবেই পরিচালিত হত। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেন কাবেরী দাস ও অজয় ভট্টাচার্য। এদিন সকালে প্রেসিডেন্সি বিভাগের অধীন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারের দপ্তরে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন কাবেরী দাস। পরে সহ সভাধিপতি অজয় ভট্টাচার্যও পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে আসেন।

    ইস্তফার পর কাবেরী দাস বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছি। জেলা পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য যেহেতু আমাদের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন, তাই ওই পদ থেকে সরে দাঁড়ালাম। বর্তমান সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে হাওড়া জেলার সার্বিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হোক, সেই আশাই করি।’ সহ সভাপতি অজয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের চিঠি আমি পেয়েছি। সেই চিঠি হাতে পাওয়ার পরই আমি আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।’ এদিকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা তুষারকান্তি ঘোষ বলেন, ‘তাঁরা আগেই ইস্তফা দিতে পারতেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য তাঁদের বিরুদ্ধে চলে গিয়েছিলেন। ফলে এ ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করে ভালোই করেছেন।’ তাঁর দাবি, বোর্ড ভেঙে যাওয়ার পর এখন রাজ্য সরকার প্রশাসক নিয়োগ করতে পারে অথবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন করে সভাধিপতি ও সহ সভাধিপতি নির্বাচন করতে পারে।
  • Link to this news (বর্তমান)