প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও নারী নির্যাতন ঘিরে তদন্ত কমিশন বসবে এইচআরবিসি ভবনে, বিজ্ঞপ্তি শীঘ্রই
বর্তমান | ১৩ জুন ২০২৬
প্রীতেশ বসু, কলকাতা: পূর্বতন সরকারের আমলের ‘প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি’র তদন্তে কমিশন গড়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। একই সঙ্গে কমিশন গড়া হয়েছে নারী নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনার তদন্তের জন্যও। কোথায় বসবে সেই তদন্ত কমিশন? কোথায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে পারবে বাংলার আম জনতা? সেই জায়গা ঠিক করে ফেলল নবান্ন। দু’টি কমিশনই বসবে গঙ্গাপারের এইচআরবিসি ভবনে। কলকাতা ময়দানের অদূরে সেন্ট জর্জেস গেট রোড বা মুন্সি প্রেমচাঁদ সরণির উপর অবস্থিত এই সরকারি বাড়িতেই কমিশনের মাধ্যমে তদন্তের জন্য আরজি জমা দেওয়া যাবে। তবে অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়াটি সহজ করতে ই-মেলের মাধ্যমেও অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা থাকবে বলে প্রশাসনিক মহল সূত্রে জানা যাচ্ছে।
প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগে খতিয়ে দেখার জন্য যে কমিটি, তার মাথায় রয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। পদস্থ পুলিশকর্তা কে জয়রামনকে এই কমিশনের মেম্বার সেক্রেটারি করা হয়েছে। মহিলা নির্যাতনের বিষয়ে তদন্তের জন্য গঠিত কমিশনের চেয়ারপার্সন করা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়কে। মেম্বার সেক্রেটারি করা হয়েছে আইপিএস দময়ন্তী সেনকে। ইতিমধ্যে অফিস প্রস্তুত করার তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে নবান্ন। দু’টি কমিশন সম্পর্কিত বিজ্ঞপ্তিও খুব শীঘ্রই জারি করা হবে। বিজ্ঞপ্তির খসড়া ইতিমধ্যে তৈরি হয়ে গিয়েছে বলে খবর। এ সংক্রান্ত বাকি থাকা কিছু কাজ সম্পূর্ণ করেই আইন দপ্তর এবং শীর্ষমহলের ছাড়পত্র নিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে বলে জানাচ্ছে প্রশাসনিক মহল।
কমিশন প্রসঙ্গে গত ১৮ মে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের সামাজিক প্রকল্পে, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের অর্থে নির্মাণকাজ, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের নানারকম পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে। কাটমানি নেওয়া হয়েছে। ঘুষ দেওয়া-নেওয়া হয়েছে। সরকারি তহবিলের অপচয় হয়েছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে। এর সঙ্গে সরকারি আধিকারিক, পঞ্চায়েত, কাউন্সিলার, দালাল অনেকে যুক্ত। এসব প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের কমিশন তৈরি হবে।’ এই কমিশনকে পরিকাঠামোগত সহযোগিতার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় লোকবল এবং নথিপত্র দিয়ে রাজ্য সরকার সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। কমিশন গঠনের ৩০ দিনের মধ্যে তারা সুপারিশ দিতে শুরু করবে। সেক্ষেত্রে ১ জুন কমিশন কাজ চালু করবে বলে জানানো হয়েছিল। তবে প্রশাসনিক মহলের মতে, সম্পূর্ণ বিষয়টি একটি জটিল আইনি প্রক্রিয়া। ফলে সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই সময় নিয়েই কমিশনের কাজকর্ম চালু করার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। কত লোকবল লাগবে, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে প্রশাসনের অন্দরে।
রাজ্যের পর্যালোচনা অনুযায়ী, এইচআরবিসি ভবনে দু’টি কমিশনের অফিস তৈরির জন্য যথেষ্ট জায়গা রয়েছে। সেখানে শুনানিসহ আনুষঙ্গিক কিছু বিষয়ও থাকবে। তাই সমস্ত দিক মাথায় রেখেই সাজানো হচ্ছে দু’টি কমিশনের অফিস।