• তৃণমূলকে খোঁচা তাপস, ঋতব্রতর
    বর্তমান | ১৩ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একদিকে দলের মধ্যেই বিদ্রোহীদের সংখ্যা বাড়ছে। অন্যদিকে ধেয়ে আসছে দলের নেতাদের পরস্পরের বিরুদ্ধে মন্তব্য। এহেন পরিস্থিতিতে সাঁড়াশি চাপে তৃণমূল। কীভাবে পরিস্থিতি সামলাবেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেটাই এখন সবথেকে বড়ো প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপাতত সবদিক পর্যবেক্ষণ করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। দলের নেতাদের সঙ্গে ঘরোয়া আলোচনায় অগ্নিকন্যা বলেছেন, আমরা যখন রাস্তায় আন্দোলন-কর্মসূচি শুরু করেছি, তখন দলের নেতাদের সিআইডি ডেকে পাঠিয়ে, না-হলে নেতাদের গ্রেপ্তার করে সবাইকে ব্যস্ত করে রেখেছে। ওদের মূল উদ্দেশ্য হল, আমরা যেন মানুষের স্বার্থে রাস্তায় নেমে আন্দোলন  করতে না পারি।

    তৃণমূলের সাংসদ থেকে বিধায়করা প্রতিদিনিই দলের মধ্যে আলাদা ব্লক বা গোষ্ঠী গড়ে তুলছেন। বিদ্রোহী সাংসদের সংখ্যা ২০ আর বিদ্রোহী বিধায়কের সংখ্যা ৬৪! অর্থাৎ তৃণমূলের অভ্যন্তরে গড়ে ওঠা অন্য গোষ্ঠীর দিকে ঝুঁকে তাঁরা। ঠিক এই অবস্থায় বৃহস্পতিবার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক মন্তব্য খবরের শিরোনামে চলে আসে। তিনি প্রকাশ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোর্টে বল ঠেলে কল্যাণ সুর চড়িয়েছেন, ‘দিদিকে ঠিক করতে হবে তিনি অভিষেকের সঙ্গে আছেন না আমার সঙ্গে?’ এই প্রেক্ষাপটে তৃণমূল নেতারা মনে করেছেন, নেত্রী হয়তো কল্যাণের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মিটিয়ে নেবেন। কেননা শুক্রবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেছেন, ‘কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধিকার আছে আমাকে নিয়ে কথা বলার।’ যদিও এই অবকাশে মমতা কেন চুপ, সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপির তাপস রায়। তিনি বলেন, তৃণমূল নেত্রীকে বলতে হবে তিনি কার সঙ্গে আছেন—অভিষেক না কল্যাণের সঙ্গে? সেটা উনি প্রকাশ্যে বলুন।

    অন্যদিকে, অভিষেকের বিরুদ্ধে তোপ অব্যাহত রেখেছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, সংসদে আমাদের নিজের মতো করে প্রশ্ন করতে দেওয়া হত না। দল থেকে বলে দেওয়া হত—কী প্রশ্ন করতে হবে! এই চাপিয়ে দেওয়া নীতি থেকে রেহাই পেয়েছি। মুক্তি মিলেছে ক্রীতদাসত্ব থেকেই।
  • Link to this news (বর্তমান)