নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধানসভায় ‘সই জাল’ কাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে সিআইডি। সই জাল করার বিষয়টি কার মস্তিষ্কপ্রসূত, তার তথ্যপ্রমাণ তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে সূত্রের খবর। গোটা প্রক্রিয়াটাই যে অত্যন্ত কৌশলী উপায়ে এবং পরিকল্পনামাফিক করা হয়েছে, সে বিষয়ে কার্যত নিশ্চিত তদন্তকারীরা। হাতের লেখার নমুনাসহ আরও কিছু পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে এসে গেলে সামান্য সংশয়ও কেটে যাবে বলে মনে করছেন তাঁরা। সিআইডি আদালতে যে তথ্য জমা দিতে চলেছে, সেখানে কার কী ভূমিকা ছিল এবং কে কে ষড়যন্ত্রে ছিলেন, তাঁদের নামসহ সমস্ত কিছুই উল্লেখ থাকবে বলে জানা গিয়েছে।
এই মামলায় তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র এবং কুণাল ঘোষকেও সিআইডি নোটিস দিয়ে তলব করেছে বলে খবর। রবিবার এই মামলায় সিআইডি দপ্তরে হাজির হওয়ার কথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেদিনই কয়েক ঘণ্টা পর ডাকা হয়েছে কুণাল ঘোষকে। শুক্রবার সিআইডি বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতেও যায়। এদিকে, ভোটের প্রচারের সময় তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ অভিষেক উসকানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন বলে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ জমা পড়েছিল। সেই অভিযোগের তদন্তভার হাতে নিয়েই সিআইডি অভিষেককে ১৬ জুন তলব করেছে নোটিস দিয়েছে।
সই জাল-কাণ্ডে তদন্তকারীদের কাছে অভিষেক দাবি করেন, বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকের রেজোলিউশন হয়েছিল। তখনই অফিসাররা জানতে চান, সেই বয়ান কোথায়? অভিষেক জানান, তিনি কভারিং লেটার করে সবার সই করা চিঠি বিধানসভায় পাঠিয়েছেন। এটাই যথেষ্ট। তদন্তকারীরা এক্ষেত্রে সংসদীয় রীতিনীতি তুলে ধরে জানান, বিরোধী দলনেতা ঠিক করার ক্ষেত্রে রেজোলিউশন হওয়ার পর একটা বয়ান লিখতে হয়। তার নীচে সই করেন বিধায়করা। এক্ষেত্রে সেরকম কিছু পাননি তাঁরা। যদি তাই হত, তাহলে একপাতায় সবার পক্ষে স্বাক্ষর করা সম্ভব হত না। অন্তত দু’টি পাতার দরকার পড়ত। এখান থেকেই তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন যে কোনো রেজোলউশনই হয়নি। একটি সাদা পাতায় সই করানোর পিছনে ‘পাকা মাথার খেলা’ আছে। ষড়যন্ত্রের ছাপ স্পষ্ট। এই বিষয়গুলি স্পষ্ট করতেই আগামী রবিবার বেলা ১১টায় ফের ডাকা হয়েছে অভিষেককে। ওই দিনই বেলা সাড়ে ৩টায় ডাক পড়েছে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের। দু’জনের বক্তব্যে কোনো ফাঁক থাকলে একসঙ্গে বসিয়ে তার ব্যাখা চাওয়া হতে পারে বলে খবর। তবে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয় কীভাবে বাইরে আসছে, এই প্রশ্নে তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন অভিষেক।
বিধানসভা ভোটের ফল বেরনোর পর ‘ডিজে বাজবে’ সংক্রান্ত মন্তব্যের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়ে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টা নাগাদ সিআইডি অফিসাররা তাঁর বাড়িতে হাজির হন। তখন তিনি বাড়িতে ছিলেন না। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর ফিরে যান অফিসাররা। পরে এনিয়ে অভিষেক বলেন, ‘দলনেত্রীর বাড়িতে পূর্বনিধারিত বৈঠক ছিল। মিটিংয়ের মাঝে খবর আসে, অন্য একটি মামলায় নোটিস দিতে সিআইডি বাড়িতে এসেছে। আমি সশরীরে নেই বলে চিঠিটা অন্য কাউকে দিতে বলি। সওয়া ৭টার সময় এসে দেখি, সিআইডি বেরিয়ে গিয়েছে।’ কিছুক্ষণ পর অবশ্য সিআইডি টিম ফের তাঁর বাড়িতে এসে ওই নোটিস দিয়ে যায়।