শনিবার ভোররাত থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেকের বাড়িতে পুলিশি অভিযান চলে। অভিষেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুমিত রায়ের খোঁজে কালীঘাটের তাঁর বাড়িতে শালবনি থানার পুলিশ তল্লাশি চালায় বলে খবর। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, সুমিতের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ টাওয়ার লোকেশন অভিষেকের বাড়ির আশেপাশে ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই রাত প্রায় ৩টের সময় পুলিশের একটি দল অভিষেকের বাড়িতে হাজির হয়।
পুলিশের দাবি, বাড়ির ভিতরে প্রবেশের আগে দীর্ঘ সময় ধরে ডাকাডাকি করা হলেও কোনও সাড়া মেলেনি। এরপর তারা বাইরের দরজার তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে এবং বাড়ির বিভিন্ন তল্লাশি চালায়। যদিও অভিযানের শেষে সুমিত রায়ের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার তল্লাশির পর সকাল ৮টার কিছু পরে পুলিশ বাহিনী সেখান থেকে চলে যায়।
এই ঘটনার খবর পেয়েই ভোরেই অভিষেকের বাড়িতে যান তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশ চলে যাওয়ার পর তিনিও সেখান থেকে বেরিয়ে যান। সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি। অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে পুলিশ তালা ভেঙে তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করেছে। সেই সঙ্গে অযথা হয়রানির অভিযোগও করেন তিনি। অভিষেক বলেন, গোটা তল্লাশি অভিযানের ভিডিও ও অন্যান্য তথ্য নথিবদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় সুমিত রায়ের নাম উঠে আসে। পাশাপাশি একটি আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত মামলাতেও সুমিতকে খোঁজা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক তদন্তকারী সংস্থার নজরে রয়েছেন। বিধানসবার সই জালিয়াতি মামলায় সিআইডি ইতিমধ্যেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এছাড়া একটি সাইবার অভিযোগের তদন্তে তাঁকে ১৬ জুন হাজিরার নোটিস দেওয়া হয়েছে। এর আগে ১৪ জুন সই-কাণ্ডে এবং ১৫ জুন নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি তলব করেছে।