• জমি দখলের চেষ্টা নিমতায়, অভিযুক্ত বিজেপি নেতা
    বর্তমান | ১৩ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: তোলাবাজি, জমি দখল সহ সমস্ত অনৈতিক কাজে জিরো টলারেন্সের কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, দলের কেউ এই কাজে যুক্ত থাকলে রেয়াত করা হবে না। অথচ, উত্তর দমদমে দল বা সরকারের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জোর করে জমি দখল, তোলাবাজি, মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে। এমনকি, একেবারে তৃণমূলের কায়দায় ৪০-৫০ জনের বাইক বাহিনী হানা দিচ্ছে বলে অভিযোগ। 

    বিধায়ক সৌরভ শিকদার বলেন, কোনো দাদাগিরি বা জুলুমবাজি বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশকে রং না দেখে কড়া পদক্ষেপ করতে আবেদন জানিয়েছি। উত্তর দমদমের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দেবাশিস ঘোষ। ওই এলাকার পাটনা ঠাকুরতলায় তাঁদের ইলেকট্রিকের দোকান সহ একাধিক ব্যবসা রয়েছে। পাশের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ১০৪ নম্বর দাগে তাঁদের ২২ কাঠা পৈর্তৃক জমি রয়েছে। অভিযোগ, ২০২২ সালে তৃণমূলের সিন্ডিকেটের মাথারা মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে ওই জমি দখল করতে চেয়েছিল। পরে ওই পরিবারের সদস্যরা পুর চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাস সহ বিভিন্ন নেতার কাছে গিয়ে বিচার চান। তাতে জমি দখলের চেষ্টা কিছুটা হলেও কমে। তবে স্থানীয় সিন্ডিকেটের মাতব্বররা মাঝেমধ্যেই জমি বিক্রি করে দেওয়ার জন্য চাপ দিত বলে অভিযোগ।

    দেবাশিসবাবুর স্ত্রী অদিতি ঘোষ বলেন, ওই জমি তাঁর স্বামী সহ চার ভাইয়ের। তৃণমূলের সিন্ডিকেট বাহিনী ওই জমি দখল করতে চেয়েছিল। সরকার বদল হওয়ার পর একমাস যেতে না যেতেই ফের জমি দখলের চেষ্টা শুরু হয়। থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। এরপর ৭ জুন রবিবার বিজেপির এক নেতার নেতৃত্বে ২০-২২ জন যুবক বাইকে করে এসে হাজির হয়। ওই নেতা বলেন, ওই জমিতে আমার ২২ লক্ষ টাকা ‘ইনভেস্ট’ হয়েছে। ওই জমির দিকে ভুলেও তাকাবেন না। গেলে রক্তগঙ্গা বইবে। 

    অদিতিদেবী বলেন, এলাকার সকলেই জানেন, ওটা আমাদের জমি। আমরা বিজেপি নেতৃত্বকে বিষয়টি জানিয়েছি। অভিযুক্ত বিজেপির উত্তর শহরতলি জেলার পদাধিকারী। ওই নেতা বলেন, আমি একজন ব্যবসায়ী। ওই জমির বিষয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে এগ্রিমেন্ট সই হয়েছে। এখন ঘোষ  পরিবার বলছে, ওই জমি তাদের। ওই জমি তাদের হলে যার সঙ্গে এগ্রিমেন্ট হয়েছে, তিনি টাকা ফেরত দেবেন। জোর করে জমি দখলের কথা ঠিক নয়।
  • Link to this news (বর্তমান)