• ত্রাণসামগ্রী মজুত, কাটমানি ফেরতের দাবি জানিয়ে জেলায় জেলায় প্রতিবাদ
    বর্তমান | ১৩ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: কোথাও ত্রাণসামগ্রী মজুতের অভিযোগে বিক্ষোভ, কোথাও আবার কাটমানি ফেরতের দাবিতে জনরোষ— জেলায় জেলায় এমন বিক্ষোভের ছবি সর্বত্র। 

    শুক্রবার প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর ক্লাব শ্রীভূমি স্পোর্টিংয়ের লাগোয়া একটি নির্মীয়মাণ বিল্ডিং থেকে প্রচুর ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার হয়। স্থানীয়দের দাবি, শুধু বিধাননগর নয়, গঙ্গাসাগর মেলার ত্রাণসামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে সেখান থেকে। এদিন সাঁকরাইলের তৃণমূল বিধায়ক প্রিয়া পালের দলীয় কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী অন্যত্র সরানো হচ্ছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকালে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। তিনটি মালবাহী গাড়ি করে ত্রিপল, কম্বল, শাড়ি, ধুতি সহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার সময় সারেঙ্গা দরগাতলা এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা সেগুলি আটকে বিক্ষোভ দেখান। খবর পেয়ে সাঁকরাইল থানার পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি ত্রাণসামগ্রী খোলা বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যেই সেগুলি মজুত রাখা হয়েছিল। এরপর হীরাপুরে একটি গ্যারাজ থেকেও বিপুল ত্রিপল উদ্ধার হয়। এলাকাবাসীর বক্তব্য, সেটি বিধায়কের ব্যক্তিগত গ্যারেজ। সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে প্রিয়া পাল বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষ্যে গত ফেব্রুয়ারি মাসে বিধায়ক কোটার ত্রাণসামগ্রী আমার কাছে এসেছিল। সেই সময় নির্বাচনি বিধি কার্যকর থাকায় বিলি করা যায়নি। সেগুলি ফেরতের জন্য আমি আগেই জেলাশাসককে চিঠি দিয়েছি। সেই অনুযায়ী আজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাড়ি পাঠিয়ে সেগুলি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এর সঙ্গে দুর্নীতির সম্পর্ক নেই।’ জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশ মেনেই বিধায়কের কাছে থাকা অবণ্টিত ত্রাণসামগ্রী ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে।

    অন্যদিকে, একই অভিযোগে দু’জনকে গ্রেপ্তার করল ধনেখালি থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম চিত্তরঞ্জন মণ্ডল, হরিপদ মালিক। জানা গিয়েছে, তারকেশ্বরের প্রাক্তন বিধায়ক রামেন্দু সিংহ রায়ের অফিস বলে পরিচিত ছিল একটি ক্লাব। তার পাশেই রয়েছে একটি কলেজ। বৃহস্পতিবার রাতে ধনেখালি থানার অন্তর্গত কোটালপুরের ওই বেসরকারি কলেজ থেকে ত্রিপল, কম্বল, চাদর, ডাস্টবিন, ফুটবল এবং অন্যান্য সরকারি ত্রাণসামগ্রী সরানোর কাজ চলছিল। সেই সময় স্থানীয়রা বাধা দিলে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে ভয় দেখানোর অভিযোগ ওঠে। একই ঘটনা ঘটেছে নামখানার মৌসুনি গ্রামে। সেখানে বাগডাঙা এলাকার প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্যা শম্পা সি মাইতির বাড়ি থেকে ত্রাণসামগ্রী পাচার হচ্ছিল বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা গিয়ে হারিকেন, ত্রিপল, প্লাস্টিকের বালতি সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র উদ্ধার করেন। সেগুলি ব্লক অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। হিসাব দিতে না পারায় এলাকার বাসিন্দাদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পাথরপ্রতিমার দিগম্বরপুর গ্রাম পঞ্চায়েত। ঢোলাহাট থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আনে। পুলিশের সামনেই পঞ্চায়েতের উপ-প্রধানের সঙ্গে এলাকার বাসিন্দাদের ধস্তাধস্তি হয়। পুলিশ উপ-প্রধানকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। 

    হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের বাঁকড়ায় শৌচালয় পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠল এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। স্যান্ডেলেরবিল পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে হাবিবুল্লা গাজির। সেই সুবাদে প্রায় ২৫০ জন গ্রামবাসীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছিল সে। এদিন স্থানীয় বাসিন্দারা ওই নেতার বাড়িতে টাকা চাইতে গেলে তাঁদের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। হিঙ্গলগঞ্জ থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামলায়। হাবিবুল্লা বলেন, আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। টিটাগড় পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার নাজির খানের বিরুদ্ধে আবাস প্রকল্পে কাটমানি খাওয়ার অভিযোগ উঠল। বাসিন্দাদের অভিযোগ, একেকজন উপভোক্তার থেকে ৩০-৩৫ হাজার টাকা নিয়েছেন তিনি। 
  • Link to this news (বর্তমান)