নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুর্গাপুজোয় ক্লাবগুলিকে ঢালাও সরকারি অনুদান আর নয়! বাছবিচার না করে রাজকোষ থেকে এই অর্থ সাহায্য বন্ধ করার ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মোদি সরকারের ১২ বছরের সাফল্য তুলে ধরতে শুক্রবার একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল নিউটাউনের কনভেনশন সেন্টারে। সেখানেই পুজো অনুদান সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে শুভেন্দুবাবু বলেন, ‘এবিষয়ে শীঘ্রই তথ্য-সংস্কৃতি দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠক করব। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, ওই সামান্য অর্থ বড়ো বা স্বাবলম্বী পুজো কমিটিগুলির প্রয়োজন নেই। সরকারি কোষাগার থেকে তাদের এই টাকা দেওয়ার দরকার নেই। যারা এই অর্থের অভাবে পুজোই করতে পারবে না, তাদের পাশে রাজ্য সরকার অবশ্যই থাকবে।’ তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসার পরই ঢালাও পুজো অনুদান বন্ধ হওয়া নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
বিগত সরকার দুর্গাপুজো আয়োজনের জন্য ক্লাবগুলিকে আর্থিক অনুদান দিত। ২০২৪ সালে ক্লাব পিছু বরাদ্দ ছিল ৮৫ হাজার টাকা। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে তা একলাফে বেড়ে হয় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। এছাড়াও পুজো কমিটিগুলিকে বিদ্যুৎ বিলে ৮০ শতাংশ ছাড়, ফায়ার লাইসেন্স সহ বিবিধ সরকারি ফি মুকুব— সব মিলিয়ে প্রতিবছর এই ‘খয়রাতি’ খাতে রাজকোষ থেকে গলে যেত কয়েকশো কোটি টাকা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থ মামলা পর্যন্ত দায়ের হয়েছিল। এবার বিজেপি সরকার সেই অনুদান নিয়ে নয়া নীতি ঘোষণা করতে চলেছে। নবান্নের এক আমলার দাবি, কলকাতা সহ জেলার বিভিন্ন বড়ো পুজোকমিটির বাজেট কয়েক কোটি টাকা ছাপিয়ে যায়। সেখানে এই লাখ টাকার কোনো গুরুত্ব নেই। সেই টাকা নয়া সরকার প্রান্তিক মানুষ কিংবা রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নে খরচ করতে চাইছে। শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে কলকাতার বড়ো পুজোকমিটিগুলির সংগঠন ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’। সংগঠনের সেক্রেটারি অঞ্জন উকিল জানিয়েছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী ভালো কথাই বলেছেন। চার লাখেরও দুর্গাপুজো হয়, আবার চল্লিশ লাখেরও। যাদের চল্লিশ লাখের পুজো, তাদের এই টাকা না হলেও চলবে। কিন্তু যারা চার লাখের পুজো করেন, এই অনুদান তাদের সত্যিই প্রয়োজন।’
শুধু ঢালাও পুজো-অনুদান বন্ধের ইঙ্গিত নয়, এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে দুর্নীতির প্রশ্নে কার্যত তুলোধোনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুবাবু বলেন, ‘বিগত সরকারের উদ্দেশে বলি—শুধু চুরি করলেন, কাজ তো করলেন না। শুধুমাত্র জল জীবন মিশনে ২৭ হাজার কোটি টাকা লুট করেছে বিগত সরকার। আগে প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধীদের ডাকা হতো না। আমরা সরকারে আসার পর সমস্ত বিধায়ক-সাংসদকে বৈঠকে ডাকছি। তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরাই বলছেন, এই প্রকল্পে নল গিয়েছে, কিন্তু জল যায়নি।’ সেই কালো দিন অতীত। এবার ডবল ইঞ্জিনের স্বাদ বঙ্গবাসী অবশ্যই পাবেন বলে প্রত্যয়ী মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারকে সময় দিতে হবে। রাজ্য সরকারের কাজের মূল্যায়ণ করার জন্য ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় চেয়ে নেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আশাবাদী রাজ্যের শিল্প সম্ভাবনা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়েও। সেই আবহ গড়তে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নয়া শিল্পবান্ধব নীতি, ঘুষ-মুক্ত সরকারি নিয়োগ, নারী নিরাপত্তা ও কঠোর আইন-শৃঙ্খলার উল্লেখও করেছেন। আগামী ২২ জুন রাজ্য বাজেট পেশ হবে। সেখানে একগুচ্ছ কল্যাণকর জনমুখী প্রকল্প উপহার পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান শুভেন্দুবাবু।