• পাম্প অপারেটরদের প্রস্তুত থাকতে হবে, পুরসভা ও সেচদপ্তরের সমন্বয়ও জরুরি
    বর্তমান | ১৩ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুধু অস্থায়ী পাম্প বসালেই হবে না। অপারেটরদেরও সক্রিয় থাকতে হবে। পাশাপাশি, পুরসভার বিভিন্ন বিভাগ, সেচদপ্তর ও কেএমডিএর মধ্যে সমন্বয়ও জরুরি। শুক্রবার বেহালার শরৎ সদনে বর্ষা নিয়ে প্রস্তুতি বৈঠকে এই কথাই বারবার উঠে এসেছে বিজেপি বিধায়কদের বক্তব্যে। বেহালা পূর্বের বিধায়ক শংকর শিকদার কিংবা যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়—সকলেই কলকাতা পুরসভাকে বর্ষার দিনগুলিতে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছেন।

    এদিন যাদবপুর, টালিগঞ্জ, বেহালা পূর্ব এবং পশ্চিম, কসবা ও মেটিয়াবুরুজ বিধানসভার অন্তর্গত কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ডগুলি নিয়ে বরোস্তরের বৈঠক হয় বেহালা শরৎ সদনে। পুর কমিশনার তথা কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পান্ডে এই বৈঠক ডেকেছিলেন। একাধিক বিধায়কের পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলারদেরও ডাকা হয়েছিল। হাজির ছিলেন যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়, টালিগঞ্জের পাপিয়া অধিকারী, বেহালা পূর্বের শংকর শিকদার এবং মেটিয়াবুরুজের বিধায়ক আব্দুল খালেক মোল্লা। তৃণমূল কংগ্রেস ও বাম মিলিয়ে মোট ১৪ জন প্রাক্তন কাউন্সিলার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তবে তাঁরা কোনো বক্তব্য রাখার সুযোগ পাননি বলে অভিযোগ। বৈঠকে বিধায়করা নিজেদের অঞ্চলের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। যাদবপুর, বেহালা পূর্ব এবং পশ্চিম বিধানসভা অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় কেইআইআইপি (অধুনা কেএমসি শার্প) প্রকল্পের আওতায় একাধিক নিকাশি পাম্পিং স্টেশন এবং ভূগর্ভস্থ নিকাশি পাইপলাইন পাতার কাজ চলছে। যে কারণে বহু জায়গায় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করতে হয়েছে। ফলে যাদবপুরের বিভিন্ন অঞ্চলসহ বেহালার একাধিক ওয়ার্ডে জল জমা ও রাস্তাঘাট বেহাল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফি-বছর বর্ষায় কম-বেশি ভোগান্তি হয় এসব এলাকার বাসিন্দাদের। এবার বাড়তি ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন অনেকে। 

    জল জমলে বিভিন্ন জায়গায় অস্থায়ী পাম্প লাগিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালায় পুর-প্রশাসন। এ প্রসঙ্গে বেহালা পূর্বের বিধায়ক শংকর শিকদার বলেন, ‘গত ১৫ বছরে কী কাজ হয়েছে, তা আমরা চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি। বেহালার মানুষের জমা জলের দুর্ভোগ শেষ হয়নি। অনেক জায়গায় যে এখনও কাজ চলছে, পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কয়েক বছর লাগবে। আপাতত চলতি বর্ষায় দুর্ভোগ যতটা কম হয়, সেটা দেখতে হবে। পুরসভা, সেচ এবং অন্যান্য বিভাগের মধ্যে সমন্বয় জরুরি। সেটাই বলেছি বৈঠকে।’ যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আধিকারিকরা জানিয়েছেন বিভিন্ন জায়গায় অস্থায়ী পাম্প বসিয়ে জমা জল নামানোর ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, পাম্প অপারেটরই পাওয়া যাচ্ছে না। ফোন নম্বর বন্ধ থাকছে। তাই বলে দিয়েছি, এগুলি যেন না হয়। প্রত্যেকেই যেন কাজের প্রতি অনুগত থাকেন। যখন প্রয়োজন পড়বে, তখনই যেন পাম্প অপারেটরদের পাওয়া যায়। পুরসভা, সেচ এবং কেএমডিএর যেখানে যার দায়িত্ব, সবাইকে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)