• বিশ্বকাপের শুরুতেই ঝড় তুলল আমেরিকা, প্যারাগুয়েকে ৪-১ উড়িয়ে দিল বড় বার্তা
    এই সময় | ১৩ জুন ২০২৬
  • বহু বছর পর আমেরিকায় (United States) বিশ্বকাপ ফিরতেই শুরু হলো নতুন এক অধ্যায়। চারপাশে ছিল বিতর্ক, চাপ আর বিশাল প্রত্যাশা, কিন্তু সে সবের কিছুই মাঠে টের পাওয়া গেল না। আমেরিকা শুরু থেকেই খেলল দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে, যেন তারা আগে থেকেই জানে কী করতে হবে। মাউরিসিও পচেত্তিনোর (Mauricio Pochettino) দল শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং প্যারাগুয়েকে (Paraguay) ৪-১ হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করে দাপুটে মেজাজে।

    শুরু থেকেই ঝড়, আগ্রাসী আমেরিকা

    ম্যাচের শুরু থেকেই আমেরিকা ছিল পুরোপুরি আক্রমণাত্মক মেজাজে। ফোলারিন বালোগান (Folarin Balogun) ও ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচের (Christian Pulisic) নেতৃত্বে তারা প্যারাগুয়ের রক্ষণকে রীতিমতো চাপে ফেলে দেয়। দ্রুত পাস, জায়গা বদল আর একসঙ্গে অনেক খেলোয়াড়ের ওপরে উঠে আসা— সব মিলিয়ে প্রতিপক্ষকে শুরু থেকেই কোণঠাসা করে ফেলে আমেরিকা।

    এই চাপের ফল আসে খুব দ্রুত। মাত্র ৭ মিনিটের মাথায় প্যারাগুয়ের ড্যামিয়ান ববাডিলা (Damian Bobadilla) চাপের মুখে নিজের গোলে বল ঢুকিয়ে দেন। যদিও গোলটি আত্মঘাতী, কিন্তু পুরো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল আমেরিকার ধারাবাহিক আক্রমণের জেরে।

    বালোগানের জোড়া গোল, ম্যাচের দখল একতরফা

    গোল পাওয়ার পর আমেরিকা যেন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। প্যারাগুয়ের রক্ষণে বারবার ফাঁক তৈরি হতে থাকে, আর চাপ সামলাতে গিয়ে তারা ভুল করতে থাকে। ৩১ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচের নিখুঁত পাস থেকে গোল করেন ফোলারিন বালোগান। তাঁর ওয়ান টাচ ফিনিশ ছিল একদম ঠান্ডা মাথার কাজ। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে আবারও আঘাত হানে আমেরিকা। মালিক টিলম্যানের (Malik Tillman) নিখুঁত থ্রু বল ধরে দুরন্ত গতিতে দ্বিতীয় গোলটি করেন বালোগান। বিরতিতে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-০, আর ম্যাচ প্রায় একতরফা হয়ে ওঠে।

    দ্বিতীয়ার্ধে লড়াইয়ের চেষ্টা, শেষেও আমেরিকার দাপট

    দ্বিতীয়ার্ধে প্যারাগুয়ে কিছুটা লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করে এবং মাঝমাঠে গতি বাড়ায়। তারা এক গোল শোধও করে ৭৩ মিনিটে। পরিকল্পিত আক্রমণ থেকে প্যারাগুয়ের হয়ে ব্যবধান কমান মরিসিয়ো (Mauricio)। তবে আমেরিকা তখনও পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখে— বল দখল, পাসিং আর আক্রমণে তারা অনেক এগিয়ে ছিল। ইনজুরি টাইমে ফের ব্যবধান বাড়ায় আমেরিকা। ম্যাচ শেষ হওয়ার ঠিক আগে জিও রেইনা (Gio Reyna) চতুর্থ গোল করেন, আর সেই গোলেই আমেরিকার দাপুটে জয়ের স্কোরলাইনের ব্যবধান আরও বেড়ে যায়।

    সব মিলিয়ে এই ম্যাচ আমেরিকা শুধু জেতেইনি, বরং আগ্রাসী ফুটবল, দ্রুত গতির আক্রমণ আর চাপ তৈরির মাধ্যমে বিশ্বকাপে শক্তিশালী বার্তা স্পষ্ট ভাবে দিয়ে দিল— তারা এসেছে বড় কিছু করতে।
  • Link to this news (এই সময়)