বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে বসনিয়ার সঙ্গে ড্র, ক্যানাডাকে বাঁচালেন পরিবর্তে নামা সাইল লারিন
এই সময় | ১৩ জুন ২০২৬
কিক-অফের আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল, ‘ইতিহাস গড়ার মুহূর্ত এসে গিয়েছে।’ কিন্তু শুরুটা সহজ ছিল না ক্যানাডার (Canada) জন্য। বসনিয়া ও হার্জ়েগোভিনার (Bosnia and Herzegovina) জোভো লুকিচ (Jovo Lukic) প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করে এগিয়ে দেন নিজের দলকে। মুহূর্তেই চাপ বাড়ে ক্যানাডার উপর। আর ঠিক তখনই বদলি হিসেবে মাঠে নামেন সাইল লারিন (Cyle Larin), বদলে দেন ম্যাচের গতি। নামার মাত্র ১২১ সেকেন্ডের মধ্যেই তিনি জাল কাঁপান। তাঁর শটে ছিল রাগ, জেদ আর সুযোগ হাতছাড়া করার তীব্র জবাব। এই গোলেই ম্যাচে ফিরে আসে ক্যানাডা (Canada)। শেষ পর্যন্ত এই ড্র থেকেই তারা পায় নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট, যা পুরো রাতটাকে করে তোলে এক ঐতিহাসিক।
ম্যাচের শুরু ও বসনিয়ার এগিয়ে যাওয়া
ম্যাচের শুরুতেই বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা (Bosnia and Herzegovina) আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল। প্রথম কয়েক মিনিটেই অমার মেমিচ (Amar Memic) সুযোগ নষ্ট করেন। এর পর জোনাথন ডেভিড (Jonathan David) সহজ সুযোগ মিস করেন, যা ক্যানাডার কোচ জেসি মার্শের (Jesse Marsch) হতাশা বাড়ায়। কর্নার থেকে সিয়াদ কোলাসিনাকের (Sead Kolasinac) হেডে বল সামনে ফ্লিক হয়ে যায়। ঠিক সেখানেই প্রস্তুত ছিলেন জোভো লুকিচ (Jovo Lukic)। তিনি সুযোগটা কাজে লাগিয়ে গোল করেন। মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে বসনিয়ার সমর্থকেরা, কেঁপে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম।
লারিনের জবাব ও ক্যানাডার লড়াই
ক্যানাডা (Canada) দ্বিতীয়ার্ধে চাপ আরও বাড়ায়। রিচি ল্যারিয়ার (Richie Laryea) জোরালো শট নিলেও দারুণ ভাবে তা ঠেকিয়ে দেন সিয়াদ কোলাসিনাক (Sead Kolasinac), সেই বল গিয়ে লাগে ক্রসবারে। এর পর একের পর এক আক্রমণ তৈরি করেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না ক্যানাডা। এর পরই সাইল লারিন মাঠে নামতে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। একাদশে সুযোগ না পাওয়া সাইল লারিন বদলি হিসেবে মাঠে নেমে পুরো ম্যাচের আবহই পাল্টে দেন। যেন নিজের বাদ পড়ার জবাব দেওয়ার জন্যই তিনি নেমেছিলেন, আর নামার পর থেকেই প্রতিটি ছোঁয়ায় বোঝা যাচ্ছিল তিনি ক্ষুধার্ত।
ইসমাইল কোনে (Ismael Kone) ও জোনাথন ডেভিডের (Jonathan David) তৈরি করা আক্রমণের সূত্র ধরে বল পৌঁছে যায় সাইল লারিনের পায়ে। দেরি না করে, কোনও দ্বিধা না দেখিয়ে তিনি ঠান্ডা মাথায় নিখুঁত ফিনিশ করেন। মুহূর্তেই স্টেডিয়ামে নেমে আসে বিস্ফোরণ, আর ক্যানাডা (Canada) ফিরে আসে ম্যাচে।
শেষ মুহূর্তের চাপ ও ড্র
ম্যাচের শেষ দিকে দুই দলই সুযোগ তৈরি করে। এডিন জ়েকো (Edin Dzeko) মাঠের বাইরে থেকেও সতীর্থদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন। তবে আর কোনোওগোল না হওয়ায় ম্যাচটি ড্র হয়ে যায়। কোচ জেসি মার্শ (Jesse Marsch) বলেন, ‘এত লাল জার্সি, সমর্থকদের এই সমুদ্র— আমাদের দারুণ ভাবে ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছে। গোল হওয়ার পর স্টেডিয়াম যেন বিস্ফোরিত হয়ে যায়।’
ম্যাচটি ছিল ক্যানাডার মাটিতে প্রথম বিশ্বকাপের ম্যাচ, আর সেই দিন স্টেডিয়ামে ছিল উৎসবের আমেজ। মাইকেল বুবলে (Michael Buble) মঞ্চে উঠে উপস্থিত দর্শকদের মাতিয়ে তোলেন, অ্যালানিস মরিসেট (Alanis Morissette) জাতীয় সঙ্গীত গান, আর গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন রায়ান রেনল্ডস (Ryan Reynolds) ও কনর ম্যাকডেভিডও (Connor McDavid)।