হু-হু করে বাড়বে মৎস্যজীবীদের আয়, জল হবে কাঁচের মত স্বচ্ছ! নতুন ফর্মুলায় বদলে যাবে গঙ্গা
News18 বাংলা | ১৩ জুন ২০২৬
গঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত, জীব বৈচিত্র্য রক্ষা করা এবং স্থানীয় মৎস্যজীবীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বন নিশ্চিত করার উদ্দেশে একটি বিশেষ রিভার র্যাঞ্চিং কর্মসূচি আয়োজন করা হল। ব্যারাকপুরের ‘সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট’এর অধীনে এবং ‘ন্যাশনাল মিশন ফর ক্লিন গঙ্গা’ ও জলশক্তি মন্ত্রকের আর্থিক সহযোগিতায় নদীতে মাছ ছাড়ার এই উদ্যোগটি নেওয়া হয়।
এই কর্মসূচির আওতায় গঙ্গায় প্রায় ২৬৫ কেজি দেশি রুই, কাতলা, মৃগেল, বাটা এবং কালবাউশ মাছের উন্নত পোনা ছাড়া হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ড. প্রদীপ দে এবং ‘নমামী গঙ্গে’ প্রকল্পের প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর ড. সঞ্জীব কুমার মান্নার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। সেখানে উপস্থিত ইনস্টিটিউটের সিনিয়র সাইন্টিস্ট ড. দিবাকর ভক্ত জানান যে, ২০১৭ সাল থেকে তারা এই ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন।
গঙ্গার দীর্ঘ অববাহিকায় গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত এ পর্যন্ত প্রায় দেড় কোটি মাছের পোনা ছাড়া হয়েছে। এই মহৎ উদ্যোগের পেছনে মূলত দুটি প্রধান উদ্দেশ রয়েছে। প্রথমত, নদীতে ছাড়া এই মাছগুলি গঙ্গার প্লাঙ্কটন বা শৈবাল জাতীয় উপাদানগুলিকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করবে, যা প্রাকৃতিকভাবেই গঙ্গার জলকে পরিষ্কার ও নির্মল রাখতে সাহায্য করবে। দ্বিতীয়ত, এই মাছগুলি বড় হলে আশেপাশের মৎস্যজীবী ভাই-বোনেরা তা ধরে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।
যা তাদের আর্থিক সমৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই ধরণের ধারাবাহিক উদ্যোগ একদিকে যেমন নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করবে, ঠিক অন্যদিকে নদীর ওপর নির্ভরশীল প্রান্তিক মানুষদের দীর্ঘমেয়াদী আয়ের পথ সুগম করবে। নদী দূষণের পাশাপাশি কমে যাচ্ছে নদী থেকে মাছের সংখ্যা। যার ফলেই তাঁরা এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে আপাতত এই মাছ ধরার ক্ষেত্রে থাকছে নিষেধাজ্ঞা, এমনটাই জানা গিয়েছে। কারণ এখন এই পোনা মাছ বড় হয়ে বংশ বিস্তার করলে পরে তবে মিলবে সঠিক ফলাফল।