দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার দলেরই ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ শতাব্দী রায়ের সঙ্গে ভূপেন্দ্রর ৯ নম্বর মতিলাল নেহরু মার্গের বাসভবনে যান সুদীপ। এই সাক্ষাৎ ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। তবে কি এ বার মমতার সঙ্গ ছাড়তে চলেছেন ‘সুদীপদা’ও?
এই মুহূর্তে তৃণমূল ছাড়ার হিড়িক চলছে। খাতায় কলমে দল না ছেড়েও তৃণমূলের ১৯ জন সাংসদ এনডিএ-তে থাকতে চেয়ে লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন। অন্যদিকে রাজ্যসভাতেও নড়বড়ে অবস্থা তৃণমূলের। ১৩ জন সাংসদের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন চার জন। এরই মধ্যে দিল্লিতে শতাব্দী-সুদীপের ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে যাওয়া নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু।
৪ মে বাংলার ভোটে তৃণমূলের হারের পর থেকেই তাসের ঘরের মতো ভাঙছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। একের পরে এক সাংসদ, বিধায়ক দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন। হাতে গোনা কয়েক জন নেতা এই মুহূর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদ, রাজ্যসভায় সাংসদের সংখ্যা ১৩।
দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের লোকসভার ১৯ জন সাংসদ স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে এনডিএ-কে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অসিত মাল, বাপি হালদার, জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, আবু তাহের খান, শর্মিলা সরকার, মিতালি বাগ, খলিলুর রহমান, অরূপ চক্রবর্তী, পার্থ ভৌমিক, জুন মালিয়া— কে নেই সেখানে?
রাজ্যসভাতেও একের পরে এক উইকেট পড়েছে তৃণমূলের। সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইক, কোয়েল মল্লিক— ইস্তফা দিয়েছেন পদ থেকে। এ বার দলের বিদ্রোহী ব্লকে সুদীপও?
দিল্লিতে পৌঁছে এ দিন ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক করেন সুদীপ। সঙ্গে ছিলেন শতাব্দী রায়ও। অনেকেই বলছেন, বিরোধী পক্ষের নেতার বাড়িতে গিয়ে যখন মিটিং করছেন, ধরেই নেওয়া যায় সুদীপও শিবির বদলে ফেলছেন।