শুভেন্দুর কাছে বাঁশদ্রোণীর সন্তানহারা মা! কী চাইলেন
আজকাল | ১৩ জুন ২০২৬
বিউ সরকার
চতুর্থ দিনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবার। সল্টলেকে বিজেপির দফতরের সামনে সকাল থেকে সাধারণ মানুষ আসেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখাও করেছেন একে একে তাঁরা।
গত ১৩ মে বাঁশদ্রোণী মহাঋষি বিদ্যামন্দিরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র আয়ূষ কুমার নাথ। এগারো দিন কোমায় থাকার পর গত ২৪ মে মৃত্যু হয় তৃতীয় শ্রেণীর ওই ছাত্রের। স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ওই ছাত্র অসুস্থতার কথা জানালেও স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনও রকম ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টে ষষ্ঠ পিরিয়ড পর্যন্ত তাকে শেষ বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়।
এরপর স্কুল থেকে বেরনোর সময় সিঁড়ি দিয়ে পড়ে মাথায় চোট পায় আয়ূষ। এখনও পর্যন্ত ওই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এর আগে বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন আয়ূষের পরিবারের লোকেরা। সেখান থেকে আশ্বাসও পেয়েছিলেন। এরপর আজ মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে এসে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন আয়ূষের মা। সূত্রের খবর, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে, হাওড়া মন্দিরতলার বাসিন্দা দেবনারায়ণ মণ্ডল নামে এক ব্যক্তিকে মিথ্যে অভিযোগ দিয়ে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল পূর্বতন সরকারের আমলে। তার অভিযোগ, তিনি দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন তাই তাকে চাকরি হারাতে হয়েছে। আবার কেউ তাঁর সন্তানের চিকিৎসার জন্য এসেছেন জনতার দরবারে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর তাঁরাও আশ্বস্ত হন।
অপরদিকে, চিকিৎসক ছেলের রহস্যমৃত্যুতে তদন্তের দাবিতে শুভেন্দুর দরবারে এক বাবা-মা। আরজি কর কাণ্ডের দু'মাস আগে মৃত্যু হয় অমর্ত্য় ঘোষাল নামে ২৪ বছর বয়সী ওই যুবকের। ক্যাম্পাসের বাইরে ছেলের মৃত্যু। সন্দীপ রায় বলে একজনকে গ্রেফতার করা হয় ওই ঘটনায়। সন্দীপ মদ্যপ ছিল বলে অভিযোগ ছিল তাঁর বাবার। তিনি জানান হাইকোর্টে দারস্থ হয়েছিল পরিবার। কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম সেই সময় পুলিশের তদন্ত নিয়ে অত্যন্ত অখুশি ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মন দিয়ে সেই সব কথা শুনেছেন। তিনি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের কথাও বলেছেন। হাইকোর্টের নির্দেশ দেওয়ার পরে ঘটনায় সিআইডি তদন্ত হয়। কিন্তু সিআইডি তদন্তে সেই সময় খুশি ছিল না পরিবার। ছেলে থ্রেট কালচারের শিকার, এমনই দাবি বাবা-মায়ের। বর্ধমান মেডিক্য়াল কলেজের হাউস স্টাফ ছিলেন অমর্ত্য়। বাবার নাম বিবেকানন্দ ঘোষাল। কলকাতার রুবিতে বাড়ি ওই পরিবারের।