• ‘অভিষেক আমার ছেলের মতো, ছেলের ভুল ক্ষমা করাই বাবার কর্তব্য’, কল্যাণের সুর নরম
    আজ তক | ১৩ জুন ২০২৬
  • কয়েকদিন আগেও তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে তোপ দেগেছিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘অভিষেক না আমরা’, এই দু’য়ের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়ার বার্তাও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই অবস্থান থেকে সরে এসে এবার অনেকটাই নমনীয় সুরে কথা বললেন প্রবীণ তৃণমূল নেতা।

    শনিবার সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কল্যাণ বলেন, 'অভিষেক আমার ছেলের মতো। ছেলের করা সব ভুল ক্ষমা করে দেওয়াই বাবার দায়িত্ব।'

    রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, সপ্তাহের শুরুতেই এক সাক্ষাৎকারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ ছিল, অভিষেকের নেতৃত্ব এবং আচরণের কারণেই দলের বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তখন বলেছিলেন, 'আজ দলের এই পরিস্থিতির জন্য অভিষেকই দায়ী। তাঁর কারণেই তৃণমূলের ক্ষতি হয়েছে এবং নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে।'

    শুধু তাই নয়, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, 'হয় আমাদের বেছে নিন, নয়তো অভিষেককে।' এমনকি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যদি দলনেত্রী অভিষেকের পাশেই দাঁড়ান, তাহলে তাঁকে অন্য সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। তবে শনিবারের মন্তব্যে সেই সংঘাতের আবহ অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

    গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ
    সাক্ষাৎকারে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, দেশে এবং রাজ্যে গণতন্ত্র ক্রমশ সংকটের মুখে পড়ছে। তাঁর কথায়, 'দেশে গণতন্ত্র হুমকির মুখে। পশ্চিমবঙ্গে এমন পরিস্থিতি আগে কখনও দেখা যায়নি, যেখানে বিরোধী দলগুলো কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। এটা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।'

    বিদ্রোহী সাংসদদেরও কটাক্ষ
    দলের একাংশের সাংসদ লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করতে পারেন বলে যে জল্পনা চলছে, সে বিষয়েও মন্তব্য করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'ওরা যা খুশি করুক। শেষ পর্যন্ত বিজেপির আশ্রয়েই থাকতে হবে। যারা নিজেদের এলাকাতেই যেতে পারেন না, তারা আবার উন্নয়নের কথা বলছেন কীভাবে?' তাঁর অভিযোগ, বিরোধী নেতাদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে দেন, তৃণমূল ও কংগ্রেসের মধ্যে কোনও ধরনের সংযুক্তিকরণ বা একীভূত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

    অভিষেকের বাড়িতে তল্লাশির আবহে মন্তব্য
    কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য এমন সময়ে সামনে এল, যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে সিআইডির তল্লাশি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে।

    তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ দাবি করেছেন, ভোররাতে তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছে তল্লাশি চালান। প্রায় দেড় ঘণ্টার ওই অভিযানে কোনও প্রমাণ বা আপত্তিকর নথি মেলেনি বলেও তাঁর দাবি। সাগরিকা ঘোষের অভিযোগ, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং বিরোধী নেতাদের ভয় দেখানোর একটি পরিকল্পিত চেষ্টা।

    সব মিলিয়ে, তৃণমূলের অন্দরের টানাপোড়েন, বিদ্রোহী সাংসদদের সক্রিয়তা এবং তদন্ত ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুর নরম হওয়া নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে। তাঁর এই অবস্থান পরিবর্তন দলের অন্দরে সমঝোতার ইঙ্গিত কিনা, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
  • Link to this news (আজ তক)