পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতিতে মদনের বিরুদ্ধে তদন্ত, ১২৫টির বেশি বেআইনি চাকরি
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৩ জুন ২০২৬
পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে শনিবার সকাল থেকে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে ইডি। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার মোট সাতটি জায়গায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চলছে। এই অভিযানের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের বাসভবন ও দপ্তর।
তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, একাধিক পুরসভায় বেআইনিভাবে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে মদন মিত্রের সম্ভাব্য ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ, বিভিন্ন পদে অযোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ প্রভাব খাটানো হয়েছিল এবং এর বিনিময়ে অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গ্রহণ করা হয়েছিল। যদিও তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, ঘুষের টাকা বা সোনা সরাসরি তাঁর হাতে না পৌঁছে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে। সেই সব ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও অনুসন্ধান চলছে।
ইডির দাবি, ১২৫টিরও বেশি সন্দেহভাজন নিয়োগের সঙ্গে এই চক্রের যোগ থাকতে পারে। কামারহাটি ছাড়াও অন্য কয়েকটি পুরসভায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মদনের প্রভাব ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শনিবার ভবানীপুরের বাড়ি ও দপ্তর পাশাপাশি কামারহাটি, দক্ষিণেশ্বর, বেলেঘাটা, জোকা এবং বেহালার, জোকা এবং বেহালার বিভিন্ন ঠিকানাতেও তদন্তকারীরা পৌঁছেছেন।
রাজনৈতিকভাবে কামারহাটিতে মদন মিত্র দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। ২০১১ সালে প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২১ ও ২০২৬ সালেও তিনি ওই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন। ফলে স্থানীয় প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক পরিসরে তাঁর প্রভাবকে তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, স্কুল নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে গ্রেপ্তার হওয়া অয়ন শীলের সূত্র ধরেই পুরসভা নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। তাঁর দপ্তর থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন নথি ও ওএমআর শিট তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এরই মধ্যে কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহাকে ঘিরে বিতর্ক এবং কাউন্সিলরদের পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার পরদিনই মদনের বাড়িতে ইডির অভিযান নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা বাড়িয়েছে।