উলট-পুরাণ। শনিবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে শোনা গেল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা। অভিষেককে আমার ছেলে বলে সম্বোধন করেন তিনি। সাংসদ বলেন, ‘ছেলের ভুল হলে বাবার কর্তব্য তাঁকে ক্ষমা করা’।কলকাতায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতির জল্পনাকে উড়িয়ে দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আমরা কংগ্রেসের সঙ্গে এক হচ্ছি না।
লোকসভার কয়েকজন তৃণমূল সাংসদ স্পিকার ওম বিড়লার কাছে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন এমন জল্পনা শোনা যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে সাংসদকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘ওরা যা খুশি করুক। শেষ পর্যন্ত বিজেপির আশ্রয়েই থাকতে হবে। সবটাই একটা চক্রান্ত। ওরা বলছে নিজেদের এলাকার উন্নয়নের জন্য যাচ্ছে, কিন্তু যারা নিজেদের এলাকাতেই যায় না, তারা আবার কী উন্নয়ন করবে?’
তিনি অভিযোগ করেন রাজ্যে বিরোধী দলগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, ‘বিজেপি আমাদের হয়রানি করছে, পুলিশও হয়রানি করছে। বাংলায় কোনও বিরোধী দল অতীতে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি। যেমনটা আমরা এখন হচ্ছি। যে ১৯ জন সাংসদ বিজেপিতে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে, বিজেপিও তাদের দলে নেবে না’।
শনিবার সকালে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে শালবনি থানার পুলিশ তল্লাশি চালায়। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, সুমিতের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ টাওয়ার লোকেশন অভিষেকের বাড়ির আশেপাশে ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই রাত প্রায় ৩টের সময় পুলিশের একটি দল অভিষেকের বাড়িতে হাজির হয়। সকাল ৮টা নাগাদ তারা বেরিয়ে যান। সেই সময় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেখানে হাজির ছিলেন। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ শনিবারের এই ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছেন।