পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের একাধিক ঠিকানা-সহ শহরের ৮টি জায়গায় শনিবার সকালে অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ভবানীপুরের বাড়িতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন ইডি আধিকারিকরা। ইডি সূত্রে খবর, পুরসভাগুলিতে অন্তত ১২৫ জনের বেআইনি নিয়োগের সঙ্গে মদন মিত্রের সরাসরি যোগ রয়েছে। দালালদের মারফত ঘুষ যেত বিধায়কের পকেটে। অনেক ক্ষেত্রে টাকা নেওয়া হত না, ঘুষ হিসেবে নেওয়া হত সোনা। অয়ন শীলের রহস্যময় ডায়েরিতে থাকা ‘MM’-এর সূত্র ধরেই এদিন মদনের বাড়িতে পৌঁছে যায় ইডি। মনে করা হচ্ছে এই ‘MM’ হলেন মদন মিত্র।
২০২৩ সালের ২০ মার্চ অয়ন শীল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁর সংস্থার বিরুদ্ধে রাজ্যের ৭টি পুরসভার নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এই ৭টি পুরসভার মধ্যে রয়েছে কামারহাটি পুরসভাও। অয়ন শীলের সংস্থার মাধ্যমে এই ৭টি পুরসভায় গ্রুপ ডি, টাইপিস্ট-সহ একাধিক পদে নিয়োগ করা হত। ওএমআর শিট ছাপানো, ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা করা হত। অভিযোগ, এই সব নিচু তলার পুরকর্মী নিয়োগে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। অয়ন শীলের সল্টলেকের অফিস থেকে উদ্ধার হওয়া এক রহস্যময় ডায়েরি থেকে ‘MM’ নাম পায় গোয়েন্দারা। সেই সূত্র ধরেই মদনের বাড়িতে হানা দিয়েছে ইডি। ইডি সূত্রে খবর, এই ‘MM’ হলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। সোশাল মিডিয়ায় করা একাধিক লাইভে নিজেকে এই নামেই পরিচয় দিতেন তিনি।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন পুরসভায় কমপক্ষে ১২৫টিরও বেশি বেআইনি নিয়োগের সঙ্গে সরাসরি মদন মিত্র জড়িত রয়েছেন। মিডলম্যান বা দালালদের মাধ্যমে ঘুষ তোলা হত। অনেকের থেকে টাকা না নিয়ে সোনা নিতেন মদন। এমনই অভিযোগ করেছেন ইডি আধিকারিকরা। এই সব প্রসঙ্গেই আজ কামারহাটির বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা।