• গ্রাম থেকে পর্যটন, ‘মডেল ভিলেজ’-এর হাত ধরে বিশ্বমঞ্চে ফের উজ্জ্বল হতে চলেছে দার্জিলিং
    News18 বাংলা | ১৩ জুন ২০২৬
  • একসময় দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে দার্জিলিং ছিল স্বপ্নের ঠিকানা। পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য, চা-বাগানের সবুজ বিস্তার এবং মেঘের রাজ্যে হারিয়ে যাওয়ার আকর্ষণে প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক ছুটে আসতেন এখানে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবহণ সমস্যা, দুর্বল পরিকাঠামো, গ্রামীণ এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব এবং কিছু নীতিগত ত্রুটির কারণে পর্যটকদের একাংশের আগ্রহ কমতে শুরু করে। ফলে পর্যটননির্ভর পাহাড়ি অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়ে। তবে এবার সেই পরিস্থিতি বদলানোর লক্ষ্যেই নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার।

    পাহাড়ের বিস্তীর্ণ অংশ এখনও পঞ্চায়েত এলাকার অন্তর্ভুক্ত। এই সমস্ত অঞ্চলে পর্যাপ্ত রাস্তা, নিকাশি, পানীয় জল ও অন্যান্য নাগরিক পরিষেবার অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা। এর ফলে যেমন স্থানীয় বাসিন্দারা ভোগান্তির মুখে পড়েছেন, তেমনই পর্যটকদেরও নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। অথচ দার্জিলিং, কার্শিয়াং ও কালিম্পংয়ের বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রামে গড়ে উঠেছে অসংখ্য মনোরম হোমস্টে ও ফার্মস্টে, যা প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র হতে পারত। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় অনেক পর্যটক একবার যাওয়ার পর দ্বিতীয়বার আর ফিরতে আগ্রহ দেখান না।

    এই পরিস্থিতি বদলাতে ইতিমধ্যেই পাহাড়ের বিধায়ক ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সূত্রের খবর, পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে পাহাড়ের গ্রামীণ এলাকায় একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ রাস্তা, নিকাশি, পানীয় জল, পর্যটন অবকাঠামো এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি আগামী বাজেটে পাহাড়ি অঞ্চলের গ্রামীণ উন্নয়ন ও পর্যটন শিল্পের জন্য বিশেষ বরাদ্দের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল বলে মনে করা হচ্ছে।

    এ প্রসঙ্গে লোকাল ১৮ বাংলার মুখোমুখি হয়ে কার্শিয়াংয়ের বিধায়ক সোনাম লামা বলেন, “বর্তমানে পাহাড়ের গ্রামাঞ্চলের উন্নয়নই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। পর্যটনের নতুন দিগন্ত খুলতে মডেল ভিলেজ প্রকল্পের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেকটি গ্রামের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, সংস্কৃতি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে সেগুলিকে পর্যটনের মানচিত্রে তুলে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে শুধু পর্যটনই নয়, স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথও আরও সুগম হবে।”

    পাহাড়ের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রূপরেখায় ‘মডেল ভিলেজ’ ধারণাকে অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি গ্রামকে আলাদা পরিচয়ে গড়ে তুলে সেখানে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ানো হবে। উন্নত রাস্তা, পরিষেবা ও পর্যটনবান্ধব পরিবেশ তৈরি হলে হোমস্টে, ফার্মস্টে, স্থানীয় হস্তশিল্প এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার প্রসার ঘটবে। দীর্ঘদিন পর আবারও নতুন পরিচয়ে বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে নিজের হারানো জৌলুস ফিরে পেতে চলেছে পাহাড়ের রানি দার্জিলিং— এমনটাই আশা পাহাড়বাসীর।
  • Link to this news (News18 বাংলা)