সুবর্ণরেখা নদীগর্ভে লুকিয়ে ২০০০ বছরের পুরনো ইতিহাস! ঝাড়গ্রামে প্রাচীন মূর্তি উদ্ধারে চাঞ্চল্য
News18 বাংলা | ১৩ জুন ২০২৬
: সুবর্ণরেখা নদীর বুক থেকে আচমকাই উঠে এল এক প্রাচীন পাথরের মূর্তি। আর এই ঘটনাকে ঘিরেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের মহাপাল এলাকায়। সম্প্রতি স্থানীয় কয়েকজন যুবক নিত্যদিনের মতো নদীতে নুড়ি ও পাথর সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। কাজ চলাকালীন জলের তলায় একটি অদ্ভুত পাথরের অবয়ব তাঁদের নজরে আসে। কৌতূহলবশত সেটি উদ্ধার করে ভালভাবে পরিষ্কার করতেই এক সুপ্রাচীন মূর্তির রূপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে তাঁদের সামনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন নদীগর্ভে পড়ে থাকা এবং জল ও বালির একটানা ঘর্ষণের ফলে পাথরটি সামান্য ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু মূর্তিটির মূল কাঠামো ও শিল্পশৈলী এখনও বেশ স্পষ্ট। আশ্চর্যের বিষয় হল, শুধু এই একটি মূর্তিই নয়, ওই একই এলাকা থেকে আরও বেশ কয়েকটি প্রাচীন পাথরের ভগ্নাংশ মিলেছে। যার মধ্যে একটি ভগ্নাংশে ভাস্কর্যের মাথার আকৃতির সুস্পষ্ট নিদর্শন লক্ষ্য করা গিয়েছে। এর ফলে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, সুবর্ণরেখার এই বিস্তীর্ণ তলদেশে হয়ত আরও অনেক প্রাচীন প্রত্নসম্পদ বা হারিয়ে যাওয়া সভ্যতার নিদর্শন লুকিয়ে রয়েছে।
ইতিমধ্যেই এই মূর্তি উদ্ধারকে কেন্দ্র করে প্রত্নতাত্ত্বিক এবং ইতিহাসবিদদের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। গবেষকদের একাংশের প্রাথমিক অনুমান, এটি জৈন ধর্মের প্রথম তীর্থঙ্কর ঋষভনাথের যক্ষ ‘গোমুখ’-এর মূর্তি। বিশিষ্ট লোকসংস্কৃতি গবেষক সন্তু জানা জানিয়েছেন, সুবর্ণরেখা অববাহিকায় গড়ে ওঠা জৈন সভ্যতা ও সংস্কৃতি অন্তত দু’হাজার বছরের পুরনো। সদ্য উদ্ধার হওয়া মূর্তিটি যে তীর্থঙ্কর আদিনাথের যক্ষ গোমুখের, মূর্তির ঠিক নীচে পদতলে থাকা ষাঁড় বা বৃষের চিহ্ন সেই সম্ভাবনাকেই আরও জোরাল করে তুলেছে।
ঐতিহাসিকদের মতে, সুদূর অতীতে জঙ্গলমহল, সিংভূম ও মানভূম অঞ্চলে জৈন ধর্মের যথেষ্ট প্রভাব ছিল। তবে প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, মূর্তিটির সঠিক নির্মাণকাল, প্রকৃত পরিচয় এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হতে গেলে রাজ্য প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বিশেষজ্ঞদের দ্বারা বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণা একান্ত প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দা বিশ্বজিৎ পাল বলেন, এই ধরনের পাথরের মূর্তিকে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। শুধু তাই নয় এর ইতিহাস উন্মোচন করা অত্যন্ত জরুরী। স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে ইতিমধ্যেই পুরো বিষয়টি জানান হয়েছে।
অমূল্য এই প্রত্নসম্পদটি যাতে চুরি বা পাচার না হয়ে যায়, তার জন্য সেটিকে আপাতত নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে। এই যুগান্তকারী আবিষ্কার জঙ্গলমহলের প্রাচীন ইতিহাসের অজানা অধ্যায়কে সামনে আনতে পারে বলে মনে করছেন ইতিহাস অনুরাগীরা। প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রত্ন বিশেষজ্ঞদের কাছে এই মূর্তির আসল তথ্য জানার জন্য পাঠান হবে।