আজকাল ওয়েবডেস্ক: মমতা ব্যানার্জি কংগ্রেসের সমালোচনা করলেও কংগ্রেস সেভাবে তাঁর সমালোচনা করে না। মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে কংগ্রেসের লড়াই 'রাজনৈতিক'। শনিবার বহরমপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে একথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের মিশে যাওয়ার বিষয়েও তাঁর কাছে কোনও খবর নেই বলে আজ আরও একবার জানিয়ে দিয়েছেন অধীর। তিনি বলেন,"কেউ কারও সঙ্গে দেখা করতে যেতেই পারে। তাতে আমি কী করব? এখন তিনি 'হুঁকে' পড়ার পর কংগ্রেসের সঙ্গে দেখা করার কথা মনে পড়ছে।" সম্প্রতি দিল্লি গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেছেন। তারপরেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে কংগ্রেস দলের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস।
কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের মিশে যাওয়ার খবর নিয়ে অধীরবাবু আজ পরিষ্কার জানিয়ে দেন, "কংগ্রেস একটি সর্বভারতীয় দল। এখানে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা সরকারিভাবে জানানো হবে। গোপনে দু'একজন জানবে এমন ঘটনা হবে না।" শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে মমতা ব্যানার্জিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন "আমি বহরমপুরের সাংসদ থাকাকালীন জেলার উন্নয়নের জন্য যে 'দিশা' কমিটি ছিল তার বৈঠক একবারও ডাকেননি জেলা শাসকরা। মমতা ব্যানার্জি ক্রমাগত কংগ্রেসের সমালোচনা করে গিয়েছেন। কিন্তু এখন 'হুঁক'-এর মুখে পড়ে কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করছেন। মমতা ব্যানার্জি অভদ্র মানে দেশের বাকি নেতারা উত্তম হবেন না এমনটা নয়। তাঁর সঙ্গে আমাদের লড়াই রাজনৈতিক।" অন্যদিকে দুর্নীতি মামলায় অভিষেক ব্যানার্জিকে ইডির তলব প্রসঙ্গে অধীর চৌধুরী আজ বলেন," তৃণমূল সরকারের সবথেকে বড় চোরের নাম মমতা ব্যানার্জি। বাকিরা ছোটখাটো মাঝারি চোর। সারদার আমলে মমতা ব্যানার্জি চৌর্যবৃত্তি শিখিয়েছিলেন। এখন সকলে সেই কথা ভুলে গিয়েছেন। তখন খোকাবাবু এই জায়গায় ছিলেন না। তবে দু'জনের পার্থক্য হল দিদি অনেক নিপুণভাবে চুরি করেছেন। কিন্তু খোকাবাবু হড়বড় করে ফেলেছেন। তিনি ডিজে বাজিয়ে চুরি করেছেন। তার ফলে সবকিছু জানাজানি হয়ে গিয়েছে। অথচ এখন সারদা কাণ্ডে লুটপাট নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। দলের মাথা মমতা ব্যানার্জিকে না ধরে সবাই এখন খোকাবাবুকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।" এর পাশাপাশি অধীর এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ বিধায়ক এবং সাংসদদেরও এক হাত নেন। তিনি বলেন, "এদের কেউ বলছেন খোকাবাবুর জন্য দল শেষ হয়ে গেল কিন্তু মমতা ব্যানার্জিকে শ্রদ্ধা করি। আবার কেউ বা বলছেন খোকাবাবু যতক্ষণ আছে আমরা নেই। আসলে এরা নানা বাহানা করে বিজেপির হাত শক্ত করতে চাইছে। তাঁরা সরাসরি কেন বলছেন না খোকাবাবুকে সরিয়ে দিন, আমরা আপনার নেতৃত্বে দল করব। আমরা বিধানসভা বা লোকসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা পেতে কাউকে চিঠি দেব না, দরখাস্ত করব না। তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ বিধায়ক, সাংসদদের কেউ বলছেন না মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে রাজনীতি করতে চাই। এই ঢপের কীর্তন বন্ধ হোক।" এর পাশাপাশি অভিষেক ব্যানার্জির বিরুদ্ধে তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকারও অধীর চৌধুরী একপ্রস্থ সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "তদন্তকারীরা 'মারছে কম, ছুট করাচ্ছে বেশি'। ধরার হলে ধরে নিক। এদের দুর্নীতির কথা সবাই জানে, কেবল জানে না সিআইডি, সিবিআই আর ইডি।"