মনিরুল হক, কোচবিহার: আবাস যোজনা প্রকল্পের উপভোক্তাদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে শীতলকুচি ব্লকের বড়কৈমারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। শনিবার ১৬৮ নম্বর বুথ এলাকায় পঞ্চায়েত সদস্য বসন্ত বর্মন একাধিক উপভোক্তার হাতে টাকা ফিরিয়ে দেন। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আবাস যোজনার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে কয়েকজন উপভোক্তার কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। দীর্ঘদিন ধরে সেই অর্থ ফেরতের দাবিতে এলাকায় ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। গত কয়েকদিনে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ, প্রতিবাদ এবং স্মারকলিপি জমা দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। সেই আবহেই শনিবার কয়েকজন উপভোক্তার হাতে টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
গ্রামবাসীদের দাবি, মোট ১৩ জন উপভোক্তার কাছ থেকে নেওয়া অর্থের মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এদিন টাকা হাতে পেয়ে স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ করেন উপভোক্তারা। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের দাবি অবশেষে পূরণ হওয়ায় তাঁরা খুশি।
উপভোক্তা নবীন বর্মন জানান, আবাস যোজনার সুবিধা পাওয়ার সময় তিনি পঞ্চায়েত সদস্যকে ৫ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। শনিবার তিনি ৪ হাজার টাকা ফেরত পেয়েছেন। বাকি ১ হাজার টাকাও পরে ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে তাঁকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “অনেকদিন ধরে টাকা ফেরতের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আজ কিছুটা টাকা হাতে পেয়েছি। বাকি টাকাও পাব বলে জানানো হয়েছে।”
অভিযোগের মুখে পড়া পঞ্চায়েত সদস্য বসন্ত বর্মন অবশ্য বিষয়টিকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর দাবি, এলাকার বাসিন্দারা টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছিলেন। সেই কারণেই ধাপে ধাপে তাঁদের অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “সকলের টাকা পর্যায়ক্রমে ফেরত দেওয়া হবে। কারও টাকা বাকি থাকবে না। যাঁদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেককে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।”
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে নিজেদের আন্দোলনের সাফল্য হিসেবে দাবি করেছে বিজেপি। দলের ৪ নম্বর মণ্ডলের শক্তি প্রমুখ রত্নেশ্বর বর্মন বলেন, সাধারণ মানুষের লাগাতার প্রতিবাদ ও চাপের ফলেই সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত সদস্য টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, আবাস যোজনার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে, যা কখনওই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, “মানুষের টাকা মানুষকে ফেরত দিতে হচ্ছে। এটা আমাদের আন্দোলনের নৈতিক জয়। আমরা চাই, ভবিষ্যতে কেউ যেন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে না পারে।”
সব মিলিয়ে বড়কৈমারি এলাকায় উপভোক্তাদের হাতে অর্থ ফেরানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। এখন নজর, বাকি উপভোক্তারাও কবে তাঁদের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত পান এবং প্রশাসন এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করে কি না।