রিয়া পাত্র: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি। আর তারপরেই তৃণমূলের ছন্নছাড়া দশা। সায়নী ঘোষকে সরিয়ে রাজ্য যুব সভাপতির পদে আরেক নেতাকে বাছলেন মমতা। শনিবার সন্ধ্যায় একের পর এক বড় ঘোষণা তৃণমূলের অন্দরে। পাশাপাশি মমতার দীর্ঘদিনের সঙ্গী মানস ভুঁইয়াও বেসুরো। দল থেকে সরছেন দুঃসময়ে। সূত্রের খবর তেমনটাই। জানা গিয়েছে, ইস্তফা দিচ্ছেন তিনিও।
আজ সন্ধ্যায় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জির বাড়িতেই বৈঠক ছিল। এই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এবার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতি পদে এলেন। এতদিন এই পদে ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি রাজ্য তৃণমূলের যুব সভাপতি হলেন অর্ণব ব্যানার্জি। তাঁর সঙ্গে আরও তিনজন এই সংগঠন চালাবেন। পাশাপাশি সৌগত রায় ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে তৃণমূলের ‘জাতীয় কর্মসমিতি’ অর্থাৎ ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটিতে নতুন করে জায়গা দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূল থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরেই আজকাল ডট ইনকে মানস ভুঁইয়া জানিয়েছেন, "আমি আজ তৃণমূল থেকে ইস্তফা দিয়েছি। ইস্তফা পত্র পাঠিয়েছি মমতা ব্যানার্জিকে। অন্য দলে যোগ দেওয়ার কথা এখন ভাবছি না। তবে রাজনীতি, সমাজসেবা করা মানুষ আমি। মৃত্যুর আগেরদিন পর্যন্ত মানুষের পাশে থেকে কাজ করব।"
প্রসঙ্গত, বিধানসভার পাশাপাশি সংসদেই তৃণমূলে ফাটল। একের পর এক সাংসদ সরে এসেছেন দল থেকে। সূত্রের খবর, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৯ জন সাংসদ চিঠি দিয়েছেন। তাঁরা আর্জি জানিয়েছেন আলাদা ব্লক গঠন করার।
সম্প্রতি একটি ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। যেখানে একাধিক তৃণমূল সাংসদের নাম এবং সই রয়েছে। যদিও তাঁদের এই সইগুলো স্পিকারকে পাঠানো চিঠির অংশ কিনা সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘাটালের সাংসদ দেব, মেদিনীপুরের জুন মালিয়া, যাদবপুরের সায়নী ঘোষের মতো সাংসদের নাম রয়েছে। রয়েছে ডেপুটি লিডার শতাব্দী রায়, মুর্শিদাবাদের আবু তাহের খান, বহরমপুরের ইউসুফ পাঠান, আরামবাগের মিতালি বাগ, কলকাতা দক্ষিণের মালা রায়, চিফ হুইপ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, মথুরাপুরের বাপি হালদার, হাওড়ার প্রসূন ব্যানার্জি, কোচবিহারের জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, বোলপুরের অসিত মাল, জঙ্গিপুরের খলিলুর রহমান, প্রমুখের নামও। কালীপদ সোরেন, পার্থ ভৌমিক, শর্মিলা সরকার, অরূপ চক্রবর্তীর সইও রয়েছে। বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের এই নতুন ব্লক এনডিএকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেই জানা গিয়েছে।