• মমতাকে আইনি নোটিশ কাকলি-পুত্রের
    আজকাল | ১৪ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি সহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে আইনি নোটিশ পাঠালেন সাংসদ পুত্র! তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার-এর ছেলে চিকিৎসক ডা. বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার এবার তৃণমূল সুপ্রিমো ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে এই আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। 

    জানা গিয়েছে, পাঠানো আইনি নোটিশে মমতা ব্যানার্জির পাশাপাশি তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র, সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি, সাংসদ সৌগত রায় এবং প্রাক্তন বিধায়ক সোনালী গুহ-এর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে দাবি করা হয়েছে, ডা. বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার সম্পর্কে বিভিন্ন সময় জনসমক্ষে এবং সংবাদমাধ্যমে এমন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে যে, তিনি বারাসত বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিট চেয়েছিলেন এবং তা না পাওয়ার কারণেই তাঁর মা রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। 

    এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর বলে দাবি করেছেন সাংসদ কাকলি পুত্র বৈদ্যনাথ। তাঁর পাঠানো আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ডা. বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার একজন উচ্চশিক্ষিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতাল ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং যুক্তরাজ্যের সেন্ট্রাল অ্যান্ড নর্থ ওয়েস্ট লন্ডন এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টে প্রশিক্ষণ ও পেশাগত কাজ করেছেন। 

    তাঁর দাবি, তিনি কখনও বারাসত বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার জন্য কোনও মনোনয়ন চাননি বা এ বিষয়ে কোনও রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাও পোষণ করেননি। নোটিশে আরও দাবি করা হয়েছে, বরং ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (আইপিএসি)-র প্রতিনিধিরা এবং তৎকালীন বারাসত জেলা টিএমসিপি-র সঙ্গে যুক্ত সোহম পাল একাধিকবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। 

    পাশাপাশি বিভিন্ন স্বাস্থ্য শিবিরে অংশগ্রহণের জন্যও তাঁকে নিয়মিত আহ্বান জানানো হতো বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। আইনি নোটিশে সংশ্লিষ্ট নেতাদের উদ্দেশে চারটি প্রধান দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডা. বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারকে নিয়ে ভবিষ্যতে কোনও মন্তব্য বা ইঙ্গিত না করা, তাঁর সম্পর্কে করা সমস্ত মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য প্রত্যাহার করা, জনসমক্ষে স্পষ্ট করে ক্ষমা চাওয়া এবং তাঁর ব্যক্তিগত চরিত্র ও রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর প্রচার বন্ধ করা। 

    নোটিশে আরও বলা হয়েছে, নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে দাবিগুলি পূরণ না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি, ফৌজদারি ও অন্যান্য আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ডা. বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার বা সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, নোটিশ প্রাপ্ত তৃণমূল নেতৃত্বের তরফেও এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি। ফলে আগামী দিনে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।
  • Link to this news (আজকাল)