একের পর এক দুর্ঘটনা লেগে রয়েছে মৃত্যু মিছিল। হাওড়া জেলা নন ফরেস্ট জন হলেও গুরুত্বপূর্ণ বন্য প্রাণীর বসবাস। পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীদের রক্ষায় বন দফতরের সঙ্গে কাজ করে চলেছে জেলার পরিবেশপ্রেমী মানুষ। এদিন পরিবেশকর্মী বন্যপ্রাণ সংরক্ষণকারী দীপঙ্কর পোড়েল আমতা-রানীহাটি রোডে চলাচলের সময় দেখেন আমতা ১০ নং পোল সংলগ্ন হরিদাদপুরে সড়কের উপরে একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ গন্ধগোকুলের দেহ পড়ে রয়েছে। দুরন্ত গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু বলে অনুমান পরিবেশ কর্মীদের। গন্ধগোকলটির মাথায় আঘাতের চিহ্ন।
রানিহাটি-আমতা রাজ্য সড়কের পার্শ্ববর্তী জলাভূমিতে বাঘরোল বা মেছোবিড়াল, বন বিড়াল, শেয়াল, সজারু-সহ বিভিন্ন প্রাণীর বসবাস। রাতে বিচরণ বা খাবারের খোঁজে রাস্তা পারাপার করতে গিয়ে দুর্ঘটনা বলেই অনুমান পরিবেশ কর্মীদের। রাজ্য সড়কের পার্শ্ববর্তীতে জলাভূমি ধ্বংস করে কল কারখানা গড়ে উঠছে। একই সঙ্গে জনবসতি বাড়ছে। বাসস্থান ছোট হয়ে আসছে বন্যপ্রাণীদের। ফলে দারুণ ভাবে সমস্যায় পড়ছে, জলাভূমির গা ঘেঁষে ও জলাভূমির মাঝ দিয়ে মসৃণ সড়ক দুর্ঘটনা বাড়াচ্ছে, প্রাণ হারাচ্ছে বন্য প্রাণীরা। পরিবেশ কর্মী দীপঙ্কর পোড়েল মৃত গন্ধগোকুলটিকে দেখে খবর দেন বনবিভাগে। বোনকর্মীরা, ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃত গন্ধগোকুলের দেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
বন্যপ্রাণীদের জীবন রক্ষায়, দ্রুত গতির যান চলাচল করা সকল রাজ্য সড়ক বা পিডব্লুডি-র রাস্তার দুই ধারের জীববৈচিত্র্যের পরিমাপ করে দ্রুত বন্যপ্রাণ পারাপারের করিডর তৈরি বা সেই মতো নির্দেশিকা সম্বলিত বোর্ড লাগানোর দাবী করে জেলার পরিবেশ কর্মীরা। এমন ঘটনা রুখতে বনবিভাগে এই নিয়ে আবারও লিখিত আবেদন জানান হবে, হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চ পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের তরফ থেকে।