• মহারানির হাসির জন্য গড়ে উঠেছিল 'চাঁদনী জলটুঙ্গি'!  আজও বেঁচে সেই ইতিহাস
    News18 বাংলা | ১৪ জুন ২০২৬
  • পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম-১ ব্লকের দিগনগর আজ ইতিহাস, স্থাপত্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য মেলবন্ধনের সাক্ষী। এখানকার অন্যতম আকর্ষণ ‘চাঁদনী জলটুঙ্গি’, যা স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে পরিচিত।

    সাহিত্যিক রাধামাধব মণ্ডল বলেন, বর্ধমান রাজপরিবারের অন্যতম প্রভাবশালী মহারাজা কীর্তিচাঁদ (শাসনকাল আনুমানিক ১৭০২-১৭৪০) এই স্থাপত্য নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তাঁর আমলেই বর্ধমানের বিস্তার ও সমৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। সেই সময় দিগনগর ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ ও বাণিজ্যকেন্দ্র, যেখানে বিভিন্ন পেশার মানুষের বসতি এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড গড়ে উঠেছিল।

    জনশ্রুতি অনুযায়ী, মহারাজা কীর্তিচাঁদের পত্নী রাজরাজেশ্বরী দেবী পাঞ্জাবের রাজপরিবারের কন্যা ছিলেন। বিবাহের পর বর্ধমানে এসে যাতে তিনি নিজের শৈশবের পরিবেশ ও আবহের কিছুটা অনুভূতি ফিরে পান, সেই ভাবনা থেকেই মহারাজা এই বিশেষ জলটুঙ্গি নির্মাণ করান। ধারণা করা হয়, ১৭১০-১৭১১ সালের মধ্যে এই স্থাপত্যের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। চারদিক পরিখা বা জলাশয় দ্বারা বেষ্টিত এই জলটুঙ্গির মাঝখানে নির্মিত হয় মূল স্থাপনা। চাঁদের আলোয় স্নিগ্ধ পরিবেশে মহারাজা ও মহারানী এখানে সময় কাটাতেন বলেই স্থানীয়দের কাছে এটি ‘চাঁদনী জলটুঙ্গি’ নামে পরিচিতি লাভ করে। স্থাপত্যশৈলীতেও রয়েছে বিশেষত্ব। জলাশয়ের মাঝখানে নির্মিত এই অবকাশকেন্দ্র অনেকের মতে রাজস্থানের জলমহল বা অনুরূপ রাজকীয় স্থাপত্যের আদলে গড়ে তোলা হয়েছিল।

    সময়ের প্রবাহে রাজকীয় ব্যবহারের সেই দিন ফুরিয়ে গেলেও চাঁদনী জলটুঙ্গি আজও বহন করে চলেছে বর্ধমান রাজবংশের গৌরবময় ইতিহাস। ঐতিহাসিক গুরুত্ব, মনোরম পরিবেশ এবং গ্রামীণ বাংলার শান্ত সৌন্দর্যের টানে প্রতি বছর বহু পর্যটক এখানে আসেন। পর্যটকদের সুবিধার্থে গড়ে উঠেছে থাকার ব্যবস্থা ও বিভিন্ন পরিকাঠামো। পর্যটকরা এসে রীতিমত মুগ্ধ হয়ে যান এই জায়গায়। বর্ধমান থেকে গুসকরা শহরে আসার পরে সেখান থেকে সহজেই এই জায়গায় পৌঁছান সম্ভব। ইতিহাস, লোককথা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব সমন্বয়ে দিগনগরের চাঁদনী জলটুঙ্গি আজ পূর্ব বর্ধমানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে নতুন পরিচিতি লাভ করেছে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)