‘৬ বছর ধরে জেলবন্দি’, দিল্লি হিংসা মামলায় নতুন করে জামিনের আর্জি শারজিল ও উমরের
প্রতিদিন | ১৪ জুন ২০২৬
২০২০ সালে দিল্লি হিংসা মামলায় নতুন করে জামিনের আর্জি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ জেলবন্দি সারজিল ইমাম ও উমর খালিদ। শনিবার দিল্লি আদালতে এই জামিনের আর্জি জানানো হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের আগের জামিনের আর্জি খারিজ করার পর ৬ মাসের বেশি সময় পার হলেও এখনও মামলার বিচারে বিশেষ অগ্রগতি হয়নি।
২০২০ সালে দিল্লিতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) বিরোধী বিক্ষোভ চলাকালীন হিংসার ঘটনা ঘটে, যাতে ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আহত হয়েছিলেন ৭০০-র বেশি। সেই ঘটনায় সারজিল ইমাম ও উমর খালিদকে অন্যতম মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে দাবি করেছিল করেছে দিল্লি পুলিশ। তারপর থেকেই জেলবন্দি এই দুই জন। একাধিকবার জামিনের আর্জি জানানো হলেও বারবার তা খারিজ হয়েছে। এই অবস্থায় নতুন করে আদালতে জামিনের আর্জি জানালেন, শারজিল ও উমর। নিজের আবেদনে শারজিল জানিয়েছেন, গত ৬ বছর ধরে তিনি হেফাজতে রয়েছেন। গত ৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে তাঁদের জামিনের আর্জি খারিজ হওয়ার পর মামলাটির আর বিশেষ কোনও অগ্রগতি হয়নি। ফলে জামিন দেওয়া হোক তাঁদের। অতিরিক্ত দায়রা আদালতের বিচারক সুমেধ সাইনির বেঞ্চে দায়ের হওয়া এই জামিন মামলার প্রেক্ষিতে দিল্লি পুলিশের বক্তব্য জানতে চেয়েছে আদালত। আগামী ৪ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে।
উল্লেখ্য, দিল্লি হিংসার ঘটনায় উমরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনে (ইউএপিএ) মামলা করেছিল দিল্লি পুলিশ। সেই থেকে তিনি জেলে আছেন। দিল্লি পুলিশ দাবি করেছিল, হিংসার ঘটনায় ‘অন্যতম মূল ষড়যন্ত্রকারী’ উমর। ‘উস্কানিমূলক’ বক্তৃতা করার অভিযোগে জেএনইউয়ের প্রাক্তন এই গবেষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়। দিল্লি হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেছিলেন উমর। সেখানে আর্জি খারিজ হলে তিনি সুপ্রিম কোর্টে যান। উমরের মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র।
পরে উমর নিজেই শীর্ষ আদালত থেকে জামিনের আর্জি প্রত্যাহার করে দিল্লির করকরডুমা আদালতের দ্বারস্থ হন। সেই আবেদন ২০২৪ সালে খারিজ হয়েছিল। অন্যদিকে, শারজিলের বিরুদ্ধে হিংসাপর্বের সময় দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া এবং উত্তরপ্রদেশের আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটিতে বিদ্বেষমূলক বক্তৃতার অভিযোগ রয়েছে।