• আগেই দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে ছিলেন, এবার তৃণমূল ছাড়লেন মানস ভুঁইয়া
    প্রতিদিন | ১৪ জুন ২০২৬
  • ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরেই তৃণমূলে ‘গৃহদাহ’। একের পর এক বিধায়ক, সাংসদের বিদ্রোহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংসার ভেঙে একেবারে খান-খান। এরই মধ্যে এবার তৃণমূল ছাড়লেন মানস ভুঁইয়া। বেশ কিছুদিন আগেই শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন তিনি। এমনকী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাও শোনা যায় প্রাক্তন বিধায়কের বক্তব্যে। যা নিয়ে শুরু হয় জল্পনা! সেই জল্পনার মধ্যেই তৃণমূলের প্রাথমিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন মানস ভুঁইয়া। তাঁর কথায়, ”আমার শিক্ষা, আমার জীবন, আমার আদর্শ বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাচ্ছে না। তাই আমি তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ ত্যাগ করলাম।” ইস্তফাপত্র ইতিমধ্যে দলনেত্রীর কাছে হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন সবংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক।

    এদিকে তৃণমূল ছাড়লেও এখনই রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না বলেই জানিয়েছেন মানস ভুঁইয়া। তাঁর কথায়, ”এখনই রাজনীতি ছাড়বো না, সমাজসেবাও ছাড়বো না। নিশ্চয়ই কিছু করব। বন্দেমাতরম শুনে বড় হয়েছি। মানুষের সেবা ছাড়া থাকতে পারবো না।।” তাহলে আগামিদিনে বিজেপিতে কি দেখা যাবে? যদিও সম্ভাবনা নিজেই উড়িয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের এই সঙ্গী। তিনি বলেন, ”আমার সংগ্রামের একটা ইতিহাস আছে। ফলে এটা কোনও কথা নয়।” সেক্ষেত্রে ফের কংগ্রেসে তাঁকে দেখা যাবে কিনা, এহেন প্রশ্নে মানস ভুঁইয়ার স্পষ্ট উত্তর, ”এখনও ভাবার সময় আসেনি।”

    বলে রাখা প্রয়োজন, রাজ্যে পালাবদলের পরেই মুখ খুলেছিলেন মানস ভুঁইয়া। কার্যত শীর্ষ নেতৃত্বকে একহাত নিয়ে তাঁর মন্তব্য ছিল, ”২০১১ সালে রাজ্যে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সময় তৎকালীন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে আমি কাঠবিড়ালির ভূমিকা পালন করেছিলাম। কিন্তু সেই কাজের স্বীকৃতি কেউ আজ পর্যন্ত দেয় নি। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কোনওদিন এই ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ একটি কথাও বলতে শোনা যায় নি।” সেই সময় শুভেন্দুর প্রশংসাও শোনা যায় তাঁর মুখে। 

    উল্লেখ্য, রাজ্যে পরিবর্তনের সময় ২০১১ সালে মানস ভুঁইয়া সেচ মন্ত্রী হয়েছিলেন। তখন তিনি কংগ্রেসে ছিলেন। পরে কংগ্রেসের সঙ্গে মনোমালিন্যের কারনে কংগ্রেস জোট ছেড়ে বেরিয়ে যায়। তিনিও মন্ত্রীত্ব ছেড়ে দেন। পরবর্তীকালে ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে বাম জোটের শরিক হিসাবে কংগ্রেসের প্রার্থী হন সবংয়ে। জয়ী হন রেকর্ড ভোটের ব্যবধানে। কিন্তু ওই বছর সেপ্টেম্বরে তিনি কংগ্ৰেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। তার পরের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ করে পাঠানো হয়। তখন সবংয়ে উপনির্বাচনে তাঁর স্ত্রী গীতা ভুঁইয়া জয়ী হয়ে তৃণমূলের বিধায়ক হয়েছিলেন। পরে ফের তাঁকে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সবংয়ে প্রার্থী করা হয়। তিনি জয়ী হয়ে রাজ্যের জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী হন। আর এবারে বিধানসভা নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন একসময়ে নিজের ছায়াসঙ্গী বিজেপি প্রার্থী অমল পান্ডার কাছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)